উদ্বোধনের আগেই ধস, ১ কোটি টাকার সেতু নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে গৌরীপুরবাসী

উদ্বোধনের আগেই ধস, ১ কোটি টাকার সেতু নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে গৌরীপুরবাসী
উদ্বোধনের আগেই ধস, ১ কোটি টাকার সেতু নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে গৌরীপুরবাসী
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নে উদ্বোধনের আগেই ধসে পড়েছে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর সংযোগ সড়ক। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, ব্যাপক অনিয়ম ও দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরে শিবপুর-বলুহা সড়কে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’। ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে কার্যাদেশ পেলেও ওই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করার কথা ছিল। তবে কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পরও এখনো প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সেতুর সংযোগ সড়কের ড্রাম শেডের গাইডওয়াল সরে গেছে। এতে রাস্তার দুই পাশের মাটি ধসে পড়েছে এবং ভেঙে গেছে ইটের সলিং ও নিরাপত্তা বেষ্টনী। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণকাজে কার্যাদেশের একাধিক শর্ত মানা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় কাজের বিবরণ, ব্যয় ও সময়সীমা উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেখানে কোনো সাইনবোর্ড দেখা যায়নি। ফলে প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ অন্ধকারে রয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, কাজ শুরুর আগে সাইট অফিস, শ্রমিকদের জন্য লেবার শেড, ইটের খোয়া ভেজানোর পানির চৌবাচ্চা এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও বাস্তবে সেসবের কিছুই করা হয়নি। অপরিকল্পিতভাবে কাজ পরিচালনার কারণে নির্মাণের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বলুহা গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল হক বলেন, “কাজের শুরু থেকেই আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ করেছি। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা অঞ্জনা রানী বলেন, “এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী চলাচল করে। বর্ষায় সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।”

গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জালাল আহমেদ আকন্দ বলেন, “এখানে কাজের কোনো সাইনবোর্ড নেই। ড্রাম শিট দিয়ে করা প্যালাসাইটিংয়ের কাজ অত্যন্ত নিম্নমানের। এই সড়ক দিয়ে কয়েকটি গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে।” তিনি কাজটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “বর্ষার কারণে কাজের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সেতুর পাশের কিছু মাটি সরে গেছে। প্রয়োজনীয় মাটি না পাওয়ায় কাজ শেষ করতে বিলম্ব হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হবে।”

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন জানান, “সেতুটি পরিদর্শন করা হয়েছে। ঠিকাদার এখনো চূড়ান্ত বিল পাননি। কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলে বিল দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কার্যাদেশ বাতিল করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখনো চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। কাজ সম্পন্ন না করে যেন কোনোভাবেই বিল উত্তোলন করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ