— বিজ্ঞাপন —

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্পর্ক জোরদারে ফিলিপাইন যাচ্ছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ

ইরান যুদ্ধ ও মার্কিন নীতির পটভূমিতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে ফিলিপাইনে আসিয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সম্পর্ক জোরদারে ফিলিপাইন যাচ্ছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ন

ইরান যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মিত্রদের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের পটভূমিতে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো নতুন করে আঞ্চলিক ও কৌশলগত হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে এ অঞ্চলের সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিরক্ষা বিষয়ক এক সম্মেলনে যোগ দিতে ফিলিপাইন যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

ফিলিপাইনে বুধ ও বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘আসিয়ান ডিফেন্স মিনিস্টার্স মিটিং-প্লাস’ (এডিএমএম-প্লাস) শীর্ষক বৈঠকে ১০ সদস্যের আসিয়ান জোট ছাড়াও ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া ও চীনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। মূল বৈঠকের পাশাপাশি আসিয়ানের ১১টি সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলাদা একটি অভ্যন্তরীণ সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এ সম্মেলনের পাশাপাশি ভারতসহ বিভিন্ন দেশ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজন করবে। এসব বৈঠকে চলমান প্রতিরক্ষা সম্পর্ক পর্যালোচনা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র অ্যানালিস্ট উইলিয়াম ইয়াং আল জাজিরাকে জানান, মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ এবং চীন ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যকার সামুদ্রিক বিরোধের মতো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলো এবারের বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। ফিলিপাইন এ বছরের আসিয়ান সম্মেলনের সভাপতি হওয়ায় দক্ষিণ চীন সাগর বিরোধ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

দক্ষিণ চীন সাগরের কৌশলগত জলসীমায় ফিলিপাইন, চীন, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই ও তাইওয়ানের নিজস্ব ভূখণ্ডগত দাবি রয়েছে। স্কারবোরো শোল ও স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জের কিছু অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেইজিং ও ম্যানিলার মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইউএস নেভাল ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, চলতি মাসে দক্ষিণ চীন সাগর ও সংলগ্ন লুজন প্রণালীতে উভয় দেশের নৌযানের মধ্যে অন্তত আটটি আশঙ্কাজনক মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

উত্তেজনার একপর্যায়ে ফিলিপাইনে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জিং কুয়ান মন্তব্য করেন যে চীন ফিলিপাইনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘সহজেই জয়ী হতে পারে’। এই মন্তব্যের পর ফিলিপাইনের একজন সিনেটর তাকে দেশ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

সম্মেলনে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দোং জুন সশরীরে উপস্থিত থাকবেন কিনা তা বেইজিং এখনও নিশ্চিত করেনি। তবে শেষ মুহূর্তে তাঁর যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের এডিএমএম-প্লাসে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উপস্থিতির বিষয়টি চীনের সিদ্ধান্ত নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ও চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী দোং জুনের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি চলতি বছরের শেষভাগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পূর্বনির্ধারিত দুটি বৈঠকের পথ সুগম করতে পারে। ইতোপূর্বে ট্রাম্প ও শি জিনপিং চলতি বছরে দুবার বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

জার্মান মার্শাল ফান্ডস ইন্দো-প্যাসিফিক প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বনি গ্লেসার জানান, সংকটকালীন যোগাযোগ শক্তিশালী করা এবং দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়ে আসছে চীন। ফলে দুই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে তা অস্বাভাবিক হবে না।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, হেগসেথের মূল লক্ষ্য থাকবে আসিয়ান রাষ্ট্রগুলোকে আশ্বস্ত করা যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান সংঘাত সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে তার প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে। বিগত এক বছরে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান থেকে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া এবং তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পের মিশ্র বার্তার কারণে এ অঞ্চলের মিত্রদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

আগামী নভেম্বরে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (এপেক) সম্মেলন ও ডিসেম্বরে জি-২০ সম্মেলনের আগে ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য বরাদ্দকৃত বড় ধরনের একটি অস্ত্র প্যাকেজ বিলম্বিত করেছেন বলে জানা গেছে। ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জা ইয়ান চং উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে হেগসেথ কীভাবে অঞ্চলে মার্কিন প্রভাব বজায় রেখে সম্পর্ক বজায় রাখেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: Al Jazeera (English)
পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗