ফিনল্যান্ডের প্রখ্যাত ভিডিও গেম ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান রেমেডি এন্টারটেইনমেন্ট তাদের ২০১৯ সালের ব্লকবাস্টার অ্যাকশন গেম ‘কন্ট্রোল’-এর সিক্যুয়েল হিসেবে নিয়ে এসেছে ‘কন্ট্রোল রেজোন্যান্ট’। প্লেস্টেশন ৫, এক্সবক্স এবং পিসিতে খেলার উপযোগী এই গেমটি আগের সংস্করণের সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও এর কিছু ভিন্নধর্মী বৈশিষ্ট্য গেমারদের নজর কাড়ছে। তবে গেমটির পরাবাস্তব আবহ কিছুটা কমে মূলধারার ধারায় প্রবাহিত হওয়ায় অনেকেই এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।
গেমটির প্রথম পর্বে মূল চরিত্র জেসি ফেডানের হাত ধরে গেমাররা অলৌকিক ও রহস্যময় ‘ওল্ডেস্ট হাউস’-এর ভেতরে এক অদ্ভুত দুনিয়া ঘুরে এসেছিলেন। কিন্তু সিক্যুয়েল ‘রেজোন্যান্ট’-এ মূল চরিত্রের পরিবর্তন এসেছে। এখানে গেমাররা খেলতে পারবেন জেসির ভাই ডিলানের চরিত্রে। দীর্ঘ বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে ডিলান দেখতে পায় ওল্ডেস্ট হাউসের সব ক্ষতিকারক অলৌকিক উপাদান ম্যানহাটনের ডাউনটাউন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে তাকে এবার ইনডোর বা অভ্যন্তরীণ স্থান ছেড়ে নিউ ইয়র্ক শহরের মুক্ত পরিবেশে নামতে হয়।
রেমেডি বরাবরই তাদের নন-লিনিয়ার গল্পবলা এবং স্বপ্নিল ও ভীতিকর পরিস্থিতির জন্য গেমিং জগতে আলাদা পরিচিতি পেয়ে আসছে। এর আগে ২০০১ সালের বিখ্যাত গেম ‘ম্যাক্স পেইন’-এ তারা নিউ ইয়র্ক শহরের চিত্র তুলে ধরেছিল। নতুন এই গেমে মুক্ত পরিবেশ বা ওপেন-ওয়ার্ল্ডের মতো স্বাধীনভাবে মিশন বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গেমাররা তাদের সুবিধাজনক সময়ে ম্যানহাটনের বিভিন্ন স্থানে শত্রুদের মোকাবিলা করতে পারবেন।
গেমটির কমব্যাট বা লড়াইয়ের ক্ষেত্রে সুপারন্যাচারাল কুংফু ও বিভিন্ন রূপ পরিবর্তনকারী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ডিলানের কাছে থাকা বিশেষ অস্ত্রটি প্রয়োজন অনুযায়ী ছুরি, কাস্তে বা হাতুড়ির রূপ নিতে পারে। এ ছাড়া ‘হিস’ নামের পরাবাস্তব শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য দূরপাল্লার অস্ত্র এবং নিষ্ক্রিয় ক্ষমতার মতো কিছু আধুনিক সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। তবে অনিমুশার মতো সুনির্দিষ্ট তলোয়ার চালনার গেমগুলোর তুলনায় এর লড়াইয়ের অনুভূতি কিছুটা সাধারণ বলে মনে হতে পারে।
গেমের অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো ‘রেজোন্যান্টস’ বা শহরের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকা বসদের বিরুদ্ধে লড়াই। ডিলান যখনই কোনো নির্দিষ্ট বসকে পরাজিত করে, তখন শহরের অন্য শত্রুদের আচার-ব্যবহার, শক্তি এবং উপস্থিতির ধরন পরিবর্তিত হয়ে যায়, যা গেমে বাড়তি চ্যালেঞ্জ যোগ করে।
অস্ত্রের চেয়ে ডিলানের চলাফেরা বা মুভমেন্ট গেমারদের বেশি আনন্দ দেবে। বহুতল ভবনের ছাদে ট্রিপল-জাম্প দেওয়া বা মহাকর্ষীয় অবস্থান পরিবর্তন করে উলম্বভাবে বাঁকা হয়ে যাওয়া রাস্তায় হাঁটার অভিজ্ঞতা বেশ চমৎকার। এই দৃশ্যগুলো গেমারদের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ইনসেপশন’-এর কথা মনে করিয়ে দেয়। একটি দৃশ্যে যেমন মাল্টিস্টোরি কার পার্কিংয়ের ভেতরের তলাগুলো অসম্ভব সব কোণে বেঁকে যায় এবং ইডিএম সংগীতের তালে তালে গেমারকে এগোতে হয়, যা গেমটির স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি।
প্রথম গেমটি যেখানে এক ধরনের মানসিক চাপ এবং দৃষ্টিভ্রম তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল, সেখানে ‘রেজোন্যান্ট’ গেমের গল্পটি কিছুটা সাধারণ ও প্রাঞ্জল। বোনকে খুঁজে পাওয়া এবং নিজের ভুল সংশোধনের এক মানবিক লড়াই ফুটে উঠেছে এখানে। সামগ্রিকভাবে, এটি চমৎকারভাবে প্রস্তুত একটি শক্তিশালী গেম হলেও রেমেডির নিজস্ব ঘরানার জটিল ও পরাবাস্তব আমেজ কিছুটা কম থাকায় এটি অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রচলিত অ্যাকশন গেমের মতো মনে হতে পারে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।