কুড়িগ্রামে এক মাদ্রাসায় শিক্ষক কর্তৃক ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ

লেখক: জিহাদুল ইসলাম
প্রকাশ: ২ মাস আগে
কুড়িগ্রামে এক মাদ্রাসায় শিক্ষক কর্তৃক ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক মাদ্রাসায় হুজুর কর্তৃক ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন ও বলাৎকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে, গত (৫ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার রাতে রাজারহাট উপজেলার নাজিম খান ইউনিয়নের বাছড়া বালাটারী তালিমুল কুরআন নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রেসক্লাব কুড়িগ্রামের কয়েকজন সাংবাদিক বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত শুরু করলে ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পায়। এ নিয়ে ওই এলাকায় এখন নানা আলোচনা সমালোচনা সহ তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাছড়া বালাটারী তালিমুল কুরআন নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় গভীর রাতে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মোঃ রাকিবুল ইসলামের হাতে ১০ বছরের শিশু শিক্ষার্থী হাফেজ পড়ুয়া মোজাহেদুল ইসলাম শারীরিক নির্যাতন ও বলাৎকারের শিকার হয়। পরে সে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দিলে মাদ্রাসা পরিচালক হাফেজ মোঃ আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ (তারা) নির্যাতন ও বলাৎকারের বিষয়টা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। এবং তিনি সহ অত্র প্রতিষ্ঠানের কমিটি তড়িঘড়ি করে রাতের মধ্যে ধর্ষক হাফেজ মোঃ রাকিবুল ইসলামকে প্রতিষ্ঠান থেকে বিদায় করে দেয়। পরবর্তীতে হাফেজ মোঃ আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ (তারা) তিনিও প্রতিষ্ঠান থেকে নিজে রহস্যময় পদত্যাগ করে চলে যান।

কিন্তু পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে আসল রহস্য। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাফেজ মোঃ আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ (তারা) তিনিও এর আগে অন্য প্রতিষ্ঠানসহ অত্র প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। বর্তমানে এই ঘটনায় মাদ্রাসা এলাকায় জল্পনা-কল্পনায় চাঞ্চল্যকর অবস্থা বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী হাফেজ পড়ুয়া মোজাহেদুল ইসলাম(১০) রাজারহাট উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের বালাকান্দি সরকার পাড়া গ্রামের মোঃ সাহেব আলীর পুত্র। বর্তমানে সে বাড়িতে সুস্থ আছে এবং মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।

ভুক্তভোগীর পরিবার আরও বলেন, এই নেক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি ফাঁসির দাবি জানাই। যেন আর কেউ ভয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে না পারে।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ধর্ষক হাফেজ মোঃ রাকিবুল ইসলাম ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের হাফেজ মোঃ আব্দুল্লাহ ইবনে সাঈদ (তারা)’র বিরুদ্ধে এ রকম ন্যাক্কারজনক ঘটনার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা।