কেনিয়ায় অবৈধ ব্যবসাবিরোধী অভিযানের মুখে দেশ ছাড়ছেন হাজারো বুরুন্ডি নাগরিক

লেখক:
প্রকাশ: ১২ ঘন্টা আগে

কেনিয়ায় অবৈধভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসা চালানো বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের ঘোষণার পর দেশ ছাড়ার হিড়িক পড়েছে বুরুন্ডির নাগরিকদের মধ্যে। সরকারের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহ করতে রাজধানী নাইরোবিয়ায় অবস্থিত বুরুন্ডি দূতাবাসের সামনে শত শত মানুষকে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। দেশটির অনেকে বাস টিকিট কেনার জন্যও তাড়াহুড়ো করছেন।

কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো সোমবারের মধ্যে নিবন্ধিত অনুমতি ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করা বিদেশি নাগরিকদের কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিছু বিদেশি নাগরিক বিনিয়োগকারী বা পর্যটক ভিসার সুযোগ নিয়ে অননুমোদিত ক্ষুদ্র ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন, যা তাদের ভিসার শর্ত পরিপন্থী।

বা পরিস্থিতি বিবেচনা করে নাইরোবিয়ার বুরুন্ডি দূতাবাস নিজ দেশের নাগরিকদের বিনামূল্যে জরুরি ভ্রমণ নথি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দূতাবাসের বাইরে থাকা বুরুন্ডির নাগরিকদের মধ্যে অনেকে তাদের সুটকেস, তোশকসহ সমস্ত আসবাবপত্র নিয়ে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে অনেকেরই ভ্রমণের খরচ বহন করার সক্ষমতা নেই, তাই তারা কেনিয়া সরকারের কাছে সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট রুটো গত সপ্তাহে জানান, কেনিয়া বিদেশি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত হলেও চীন বা অন্য কোনো দেশ থেকে এসে কেউ ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা বা ছোট দোকান খুলুক তা গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাজ হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদন বৃদ্ধি করা, স্থানীয় কেনীয়দের ক্ষুদ্র ব্যবসায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নয়। সমালোচকরা এই পদক্ষেপকে বিদেশিবিদ্বেষ উসকে দেওয়ার ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করলেও কেনীয় কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় পূর্ব আফ্রিকার দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। বুরুন্ডির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এদুয়ার্দ বিজিমানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, বুরুন্ডিতে থাকা কেনীয়রা শান্তিতে বসবাস করছেন, তবে বুরুন্ডির বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। কেনিয়ায় থাকা বুরুন্ডি নাগরিকদের সুরক্ষার পূর্ণ দায়িত্ব কেনিয়া সরকারের বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিজিমানা এ বিষয়ে পূর্ব আফ্রিকান কমিউনিটির (ইএসি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন, যেখানে কেনিয়ার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তিনি কেনিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বিষয়টি তাদের সরকারের কাছে পৌঁছানো এবং কোনো বুরুন্ডি নাগরিক যেন নির্যাতনের শিকার না হন তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করতে কেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব কোরির সিংওই জানিয়েছেন, বৈধ কাজের অনুমতি ও লাইসেন্স থাকা যেকোনো পূর্ব আফ্রিকান বা বিদেশি নাগরিক আইন মেনে কেনিয়ায় বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। তবে এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও বিদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ পুরোপুরি কমেনি।

কেনিয়ায় বসবাসরত বুরুন্ডিয়ানদের অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অ্যালেক্সিস এতিনানিরওয়া প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে আঞ্চলিক প্রভাব পড়তে পারে, কারণ বুরুন্ডি, তাঞ্জানিয়া ও উগান্ডাতেও অনেক কেনীয় নাগরিক ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, কেনিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১৬,০০০ বুরুন্ডি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী রয়েছেন, যাদের একটি অংশ এই অভিযানের মুখে পড়েছে।

সূত্র: BBC News – World

  • অভিবাসী
  • আন্তর্জাতিক সংবাদ
  • উইলিয়াম রুটো
  • কেনিয়া
  • বুরুন্ডি