ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে গ্যাস সংকটের কারণে ১৯ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত আশুগঞ্জ সার কারখানার ইউরিয়া উৎপাদন। ২০২৫ সালের ১ মার্চ থেকে উৎপাদন বন্ধ থাকায় দেশের সারের চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভরতা বাড়ছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনার সময় এসব তথ্য উঠে আসে।
আশুগঞ্জ সার কারখানার দৈনিক প্রায় ১ হাজার ১৫০ টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানাটির সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। একইভাবে গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে জামালপুরের তারাকান্দির যমুনা সার কারখানাতেও। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর সেখানে উৎপাদন পুনরায় শুরু হলেও বর্তমানে কারখানাটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।
বিসিআইসি জানিয়েছে, পাঁচটি রাষ্ট্রায়ত্ত ইউরিয়া সার কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৯৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। গ্যাস সংকটের কারণে বিভিন্ন সময়ে এসব কারখানার উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত রাখতে হয়েছে।
বৈঠকে দেশে সারের উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সার কারখানাগুলো পুনরায় চালু, পুরোনো কারখানা আধুনিকায়ন এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া কৃত্রিম সার সংকট তৈরি করা ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টি পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়। সারের মজুত ও সরবরাহের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানতে ডিজিটাল রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করতেও বলা হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার ও বীজ উৎপাদন, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে বিএডিসির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরবর্তী বৈঠকে বিস্তারিত উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিটি।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।