চান্দুরা-চম্পকনগর-সিঙ্গারবিল সড়ক মৃত্যুফাঁদে পরিণত, দ্রুত সংস্কারের দাবি

লেখক:
প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বেহাল সড়ক ব্যবস্থা। বিশেষ করে চান্দুরা-চম্পকনগর-সিঙ্গারবিল সড়কের ভয়াবহ অবস্থা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, স্বাধীনতার পর থেকেও উন্নয়ন বঞ্চিত এই জনপদের মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় সংকট “রাস্তা”।

গত দেড় বছর ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা শুরু হওয়ার পর টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। কোথাও রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে, আবার কোথাও সৃষ্টি হয়েছে ছোটখাটো খালের মতো অবস্থা। এতে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস আগে চান্দুরা থেকে চম্পকনগর পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমদিকে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার অংশে কাজ সম্পন্ন করা হলেও পরে হঠাৎ করেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। গত তিন থেকে চার মাস ধরে কোনো ধরনের সংস্কার কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। কেন কাজ বন্ধ রয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

চম্পকনগর থেকে সিঙ্গারবিল পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, টুকচানপুর, লক্ষ্মীপুর, আদমপুর, নোয়াগাঁও মোড়, খিঁড়াতলা ও আটকলা এলাকায় অসংখ্য বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কিছু কিছু গর্তের দৈর্ঘ্য ৩০ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত। নোয়াগাঁও মোড়ের দক্ষিণ পাশে প্রায় ৩০০ ফুট রাস্তা পানির নিচে ডুবে আছে। এছাড়া আটকলা গ্রামের প্রায় ২০০ ফুট অংশ এখন ছোট খালের মতো দেখাচ্ছে।

খিঁড়াতলা এলাকার দুটি অংশ বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে কিংবা সম্পূর্ণভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় পরিবহন চালকদের অভিযোগ, প্রতিদিন সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন বিকল হচ্ছে। দুর্ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। অনেক রোগী হাসপাতালে নেওয়ার পথেই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কিংবা বিদ্যুৎ সংকটের চেয়েও বর্তমানে বিজয়নগরের মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সড়ক। বাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্র এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই রাস্তার দুর্দশা।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী জনগণ দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে সড়কের বড় বড় গর্ত ভরাট এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো মেরামতের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পূর্ণাঙ্গ সংস্কার কাজ বর্ষার পরে হলেও অন্তত আপাতত চলাচলের উপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিজয়নগর উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, “টেন্ডারের দীর্ঘসূত্রতা না বাড়িয়ে অন্তত বড় গর্তগুলো দ্রুত ভরাট করা হোক। তাহলে সাধারণ মানুষ সাময়িক হলেও স্বস্তিতে চলাচল করতে পারবে।”

বিজয়নগরের লাখো মানুষের প্রত্যাশা, জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।