জনগণের প্রত্যাশা ও বাংলাদেশের করণীয়

লেখক:
প্রকাশ: ১ মাস আগে

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচন ও জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সভাপতি তারেক জিয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। এখন শুধু ক্ষমতা গ্রহণের মুহূর্ত নয়, বরং কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে দায়িত্বশীলভাবে দেশের ভাবমূর্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সময়।

প্রথমত, জনগণের সবচেয়ে প্রাথমিক প্রত্যাশা শান্তি ও নিরাপত্তা। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংঘর্ষ জাতীয় জীবনকে দুর্বল করেছে। নতুন সরকারের কাছে আশা থাকবে রাজনৈতিক সহমতের ভিত্তিতে একটি স্থায়ী সংলাপঘটিত পরিবেশ গড়ে তোলার। বিরোধী দলগুলোর সন্দেহ ও আস্থা ভাঙিয়ে সরকার যদি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ নীতিতে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারে, তাহলে দেশ দ্রুত সামগ্রিক উন্নয়ন পথে ফিরে যাবে।

দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট — এসব মোকাবিলা করতে হলে সরকারকে সুদৃঢ় অর্থনৈতিক নীতিমালায় কাজ করতে হবে। কর্পোরেট ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়তা, বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতি সহজীকরণ, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বাজেট বাড়ানো — এগুলো দেশকে আর্থিক স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাবে। সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করলে যুবসমাজের কর্মসংস্তানের সুযোগ বাড়বে।

তৃতীয়ত, মৌলিক সামাজিক পরিষেবা যেমন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সব নাগরিকের কাছে সহজলভ্য করতে হবে। মানুষের স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ একটি দেশের শক্তির দিক, আর শিক্ষা হয়েছে সামগ্রিক উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মান উন্নত করলে সামগ্রিক উন্নয়ন সূচকে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

চতুর্থত, পরিবেশগত দায়িত্ব এককথায় অবহেলাই করা যায় না। জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা ও খরা — এসব ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বনায়ন ও সবুজ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অপরিহার্য।

সবশেষে, সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জনআস্থা অর্জন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জনগণের কর লাগবে, সেই কর কোন পথে খরচ হচ্ছে তা তারা জানবে — এটাই স্বচ্ছ সরকারের মূল মনোভাব। দুর্নীতি নিরোধ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা, মাধ্যমে ও তথ্যে স্বাধীনতা — এগুলো যদি সত্যিকারের বাস্তবে পরিণত করা যায়, তাহলে বাংলাদেশ একটি স্থায়ী উন্নয়ন ও সমাজিক ন্যায় নিশ্চিত দেশের রূপে সামনে আসবে।

জনগণ সরকার থেকে সম্মান, নিরাপত্তা, কাজের সুযোগ ও আশা করে। এ প্রত্যাশা পূরণে সফল হলে আগামী প্রজন্ম বাংলাদেশের ভবিষ্যৎকে ইতিবাচক বলেই মনে করবে। সময় এসেছে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের ওপর দিয়ে ছাড়িয়ে জনগণের সার্বিক মঙ্গল ও দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে আন্তরিকভাবে কাজ করার।