জাতিসংঘে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে ব্রিটেনের নতুন বার্তা

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক সফর করছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এ সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে তার বার্তার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
জাতিসংঘে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে ব্রিটেনের নতুন বার্তা
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিতে নিউ ইয়র্ক সফরে গিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের দেওয়া ব্রিফিং অনুযায়ী, বিশ্বনেতাদের এই সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইউক্রেন সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আলোচনার মূল কেন্দ্রে থাকবে।

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে বার্নহ্যাম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জীবনযাত্রার খরচ কমানো এবং বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার কাজে লাগানোর আহ্বান জানাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই সফরের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন এআই ও স্বায়ত্তশাসন অংশীদারিত্বের কাজ শুরুর ঘোষণা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও জাতীয় অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যৌথভাবে ব্যবহার করবে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘র‍্যাপিড এআই ডেলিভারি টাস্কফোর্স’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার চিফ ডিজিটাল অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অফিস’ যৌথভাবে এআই প্রযুক্তি ও স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করবে। তবে যুক্তরাজ্য এআই মডেলের জনসমক্ষে প্রকাশের আগে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তার পরীক্ষার আন্তর্জাতিক প্রস্তাবে সই করেনি। ফিনল্যান্ডের উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জার্মানি, ইইউ, বাহরাইন ও সিঙ্গাপুর এই বাধ্যবাধকতায় সই করলেও যুক্তরাজ্যের অনুপস্থিতি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের আমলে ডাউনিং স্ট্রিটের কর্মকর্তা ড্যারেন জোনস সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ফিনল্যান্ডের প্রস্তাবিত উদ্যোগে যুক্তরাজ্যেরও সমর্থন দেওয়া উচিত ছিল। তিনি যুক্তরাজ্যের সরকারকে এই নিরাপত্তা প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার পরামর্শ দেন।

সফরকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম বলেন, ব্রিটেন জি৭ দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। তিনি যুক্তরাজ্যের পিছিয়ে পড়ার যে অভিযোগ বা ধারণা রয়েছে তা নাকচ করে দিয়ে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে চান বলে জানান। এছাড়া তিনি আগামী ২০২৭ সালের জি২০ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্ব ও এআই গভর্নেন্সে দেশটির ভূমিকা জোরদার করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে বার্নহ্যাম জানান, অতীতে দেওয়া রাজনৈতিক মন্তব্য ভুলে কূটনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেয়াই এখন মূল লক্ষ্য। সাংবাদিকরা তাঁকে অতীতে ট্রাম্প সম্পর্কিত তীব্র সমালোচনার কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের গভীরতার ওপর জোর দেন।

নিউ ইয়র্কগামী বিমানে সাংবাদিকদের সাথে কথোপকথনে বার্নহ্যাম আরও নিশ্চিত করেন যে, সৌদি আরবের অনুরোধে যুক্তরাজ্য হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক বিমান জ্বালানি সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক পুনর্বাসনের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইইউতে যুক্তরাজ্যের ফেরার সম্ভাবনা সংক্রান্ত আলোচনার পথও তিনি খোলা রেখেছেন।

অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – Technology
পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ