বাংলাদেশ ডেস্ক: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ন
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবং প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটাতে বড় ধরনের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের চিকিৎসা সেবাকে আর ‘বিজনেস অ্যাজ ইউজুয়াল’ ধারায় রাখার কোনো সুযোগ নেই। ধনী ও দরিদ্র নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য মানসম্মত, সাশ্রয়ী ও সমতাভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করতে পুরো স্বাস্থ্য খাতকে প্রযুক্তিবান্ধব এবং আধুনিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। উক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের ২০ কোটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার একটি জাতীয় ডিজিটাল হেলথ সিস্টেম, হেলথ কার্ড এবং সুনির্দিষ্ট রেফারেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বড় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলে সব নাগরিকের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যাবলি এক জায়গায় সংরক্ষিত থাকবে, যা দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর দৈনন্দিন দীর্ঘ লাইন ও রোগীদের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল আটটায় গেট খোলার পর শত শত অসুস্থ মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে হয়। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে এই ভোগান্তি দ্রুত নিরসন সম্ভব। হাসপাতালগুলোতে অ্যাপভিত্তিক নির্দিষ্ট সময়ের স্লটে সিরিয়াল নেওয়ার ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করার ওপর জোর দেন তিনি। তরুণ প্রযুক্তিবিদ ও উদ্ভাবকদের তৈরি আধুনিক অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এই দীর্ঘদিনের সংকট সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের ওষুধ বাইরে অবৈধভাবে বিক্রি হওয়া বা অন্য কোনো অনিয়ম প্রতিরোধে প্রযুক্তির শরণাপন্ন হওয়ার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালের ওষুধ বিতরণে আধুনিক সাপ্লাই চেইনের অংশ হিসেবে কিউআর কোড এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে ওষুধের সঠিক সরবরাহ সুনিশ্চিত করা যায়।
স্বাস্থ্য খাতে গবেষণাকে কোনো ধরনের ‘ব্যয়’ না ভেবে বরং ‘ভবিষ্যতের বিনিয়োগ’ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান ড. এম এ মুহিত। তিনি জানান, চলতি বাজেটেই তরুণ চিকিৎসক ও গবেষকদের জন্য একটি বিশেষ গবেষণা তহবিল বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলকে (বিএমআরসি) আরও শক্তিশালী করা এবং সরকারি উদ্যোগে আধুনিক মলিকুলার ল্যাব স্থাপনের উন্নয়নকাজ বর্তমানে চালু রয়েছে।
বাংলাদেশ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন এবং ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য নিরাপত্তার প্রস্তুতি বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) প্রশাসনিক ও কারিগরি সক্ষমতা বাড়িয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘ম্যাচ্যুরিটি লেভেল ৩ (এমএল-৩)’ অর্জনে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি দেশে ডেঙ্গুসহ নানা সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ কমাতে আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও লার্ভা নির্মূল পদ্ধতির ট্রায়াল বা পরীক্ষা জোরদার করা হচ্ছে।
দেশের ভেতর স্বয়ংসম্পূর্ণ ভ্যাকসিন সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ লক্ষ্যে একটি জাতীয় ভ্যাকসিন রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিদেশে কর্মরত সফল বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের দেশের স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতিতে কাজে লাগাতে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ প্রক্রিয়া জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের সামগ্রিক বিকাশে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।