জার্সি বিমানবন্দরের রানওয়ে ও সংরক্ষিত আকাশসীমায় অননুমোদিত ড্রোন প্রবেশের কারণে টানা দ্বিতীয় রাতের মতো বিমান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে। শনিবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে ড্রোন দেখতে পাওয়ার পর বিমানবন্দরে আগমনকারী রাতের সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর ফলে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাজারো যাত্রী।
স্টেটস অফ জার্সি পুলিশ পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ইন্সপেক্টর রব ম্যাককালাম জানিয়েছেন, আনুমানিক দুই থেকে তিনটি ড্রোন এয়ারফিল্ডের সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করেছিল। তবে প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার পেছনে কোনো সন্ত্রাসবাদী সম্পৃক্ততা নেই বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার পেছনে দায়ীদের চিহ্নিত করতে জনসাধারণের কাছে তথ্য চেয়ে আবেদন জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ড্রোন বিঘ্নের কারণে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় স্পোর্টস ক্লাব জার্সি আরএফসি। তাদের সউদাম্পটন থেকে জার্সি ফেরার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলীয় বুকিং হওয়ায় এবং ছুটির মৌসুম চলায় বিকল্প কোনো ফ্লাইট পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে সোমবার সকালের ফ্লাইটে তাদের ফিরতে হচ্ছে, যা অপ্রত্যাশিত হোটেল খরচসহ ক্লাবের জন্য হাজার হাজার পাউন্ডের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে আসা স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিতে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর হতাশ হন প্যাসিফিক বাসিরওয়ে নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি বলেন, পরপর দুই দিন একই ঘটনা ঘটল। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ ও দায়ীদের দ্রুত বিচার করা উচিত, তা না হলে এই তৎপরতা থামবে না।
এদিকে টানা দুই দিন ধরে ফ্লাইট বাতিলের কারণে ট্যাক্সি চালকরাও চরম সংকটে পড়েছেন। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ট্যাক্সি চালানো রিচার্ড দে লা হায়ে বলেন, আমরা দুই ঘণ্টা ধরে না জেনে বসে থাকি ফ্লাইট আসবে কি না। ফ্লাইট বাতিল হলে পুরো সময়টাই নষ্ট হয়, যার ফলে আমাদের জীবিকায় টান পড়ছে।
জার্সির চিফ মিনিস্টার সিনেটর লিন্ডন ফার্নহাম কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় ড্রোন ওড়ানো কোনো কৌতুক বা নির্দোষ শখ হতে পারে না। দায়ীদের চিহ্নিত করা গেলে আইনের সর্বোচ্চ সাজা ভোগ করতে হবে। তিনি জানান, সরকার এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ইউকে কর্তৃপক্ষ ও বিশেষ সংস্থার সহায়তায় ড্রোন শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধমূলক প্রযুক্তি জোরদারের কাজ চলছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।