ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন এবং দুইবারের অলিম্পিয়ান কিয়ারা ম্যাগিয়ান ৩৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। আয়ারল্যান্ডের উত্তর আয়ারল্যান্ডের পোর্তাফেরি এলাকার বাসিন্দা এই তারকা অ্যাথলেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। গত বছরের জুলাই মাসে তিনি নিজের ক্যান্সার শনাক্ত হওয়ার কথা প্রকাশ করেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আজ সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে কিয়ারা তার প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে থেকে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে হেরে যান। একজন প্রিয় কন্যা, বোন, স্ত্রী, বন্ধু এবং অসংখ্য মানুষের অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি সবার হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।”
ম্যাগিয়ান ২০১৬ এবং ২০২০ সালের অলিম্পিক গেমসে আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তবে গোড়ালির চোটের কারণে ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিক থেকে তিনি নাম প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে রোমে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ১৫০০ মিটারে স্বর্ণপদক জিতে তিনি তার ক্যারিয়ারের প্রথম প্রধান শিরোপা লাভ করেন।
কাউন্টি ডাউনের এই অ্যাথলেট কমনওয়েলথ গেমসেও উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে ১৫০০ মিটারে রৌপ্য পদক অর্জন করেন।
ছোটবেলা থেকেই খেলার মাঠে দারুণ প্রতিভাবান ছিলেন ম্যাগিয়ান। তিনি পোর্তাফেরি জিএসি-র হয়ে ক্যামোজি খেলতেন। কিন্তু অলিম্পিকে আয়ারল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন তাকে অ্যাথলেটিক্সে ক্যারিয়ার গড়তে অনুপ্রাণিত করে। তার জুনিয়র ক্যারিয়ারও ছিল বেশ সাফল্যমণ্ডিত, যেখানে তিনি ২০১০ সালের বিশ্ব জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১১ সালের ইউরোপীয় জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ১৫০০ মিটারে রৌপ্য পদক জেতেন। এছাড়া ২০১০ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ১৮ বছর বয়সে তিনি ১৫০০ মিটারের ফাইনালে পৌঁছান।
তবে সিনিয়র পর্যায়ে তার প্রাথমিক অগ্রগতি মারাত্মক পায়ের গোড়ালির চোটের কারণে ব্যাহত হয়, যার ফলে ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার আশা ভেস্তে যায়। ২০১৩ সালে অস্ত্রোপচারের পর ২০১৪ সালের জুলাইয়ে ট্র্যাকে ফিরে এসে তিনি আইরিশ ১৫০০ মিটার খেতাব জয় করেন।
২০১৬ সালে আমস্টারডামে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ম্যাগিয়ান ১৫০০ মিটারে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন। কিন্তু রিও অলিম্পিকে তার অভিষেক ছিল হতাশাজনক, যেখানে তিনি সেমিফাইনাল পর্যায় থেকেই বিদায় নেন।
২০১৭ সালের শেষের দিকে ম্যাগিয়ান কোচ জেরি কিয়ারনানের সাথে চুক্তি শেষ করে ডাবলিনের ঘাঁটি ছেড়ে ম্যানচেস্টারে স্টিভ ভার্ননের ‘টিম নিউ ব্যালেন্স’-এ যোগ দেন। এরপর ২০১৯ সালের মার্চ মাসে ইউরোপীয় ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ অর্জন করেন এবং ২০২০ সালে ডায়মন্ড লিগের মোনাকো মিটে সোনিয়া ও’সুলিভানের ২৭ বছরের পুরানো আইরিশ ১০০০ মিটারের রেকর্ড ভেঙে ২:৩১.০৬ সময় রেকর্ড করেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।