ব্রাহ্মণবাড়িয়ার
সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিটঘর গ্রামের বাসিন্দা মো. কাজল মিয়াকে। তবে এই পদ পাওয়ার
পর তাঁর অতীত রাজনৈতিক পরিচয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলায়
নাম থাকা এবং স্থানীয়ভাবে ওঠা জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিস্তারের অভিযোগ নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি
হয়েছে।
প্রাপ্ত
নথি ও স্থানীয় সূত্রের
দাবি অনুযায়ী, কাজল মিয়ার নাম যাত্রাবাড়ী, পল্টন ও মোহাম্মদপুর থানার
একাধিক মামলার নথিতে রয়েছে। সরবরাহ করা সাতটি পুলিশি PCR নথিতে তাঁর নাম ও পরিচয়ের উল্লেখ
পাওয়া গেছে । এর মধ্যে
যাত্রাবাড়ী থানার ২৬ ফেব্রুয়ারি ও
২১ মার্চ ২০২৫ সালের এবং মোহাম্মদপুর থানার ২ জানুয়ারি ২০২৬
সালের মামলার নথিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারাসহ বিভিন্ন ধারার উল্লেখ রয়েছে।

স্থানীয়
একাধিক সূত্রের দাবি, বিভিন্ন থানায় তাঁর বিরুদ্ধে বা তাঁর নাম
উল্লেখ করে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা প্রায় ৮টি। কাজল
মিয়াকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি
হয়েছে তাঁর অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে।
২০২২
সালের ১৪ ডিসেম্বর তারিখের
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের একটি চিঠির অনুলিপিতে ৩১ সদস্যের একটি
আংশিক কমিটির ১৩ নম্বরে কাজল
মিয়ার নাম দেখা যায়। ওই নথিতে তাঁকে
কাতার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেখানে র আ ম
উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী এমপির ও আল মামুন
সরকারের স্বাক্ষর রয়েছে। এমন একটি কাগজ অনলাইনে প্রচার হতে দেখা যায়।
এ
ছাড়া আওয়ামী লীগের পরিচয়ে তাঁর ছবি সংবলিত বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা পোস্টারের ছবিও পাওয়া গেছে । বিভিন্ন মামলার
নথিতেও তাঁর আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের উল্লেখ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়
সূত্রের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কাজল মিয়া
বিএনপির নামে একটি সংগঠন গড়ে তুলে নিজেকে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই পরিচয়কে কেন্দ্র
করে এলাকায় মিষ্টি বিতরণের ঘটনাও ঘটেছিল বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন।
এ
বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কাজর মিয়া পথিকটিভিকে জানান যাত্রাবাড়ি আমার বিরুদ্ধে ৪/৫টি মামলা
রয়েছে। তবে আমি তখন কাতার ছিলাম। আমি ৫ আগস্টের পর
দেশে আসছি। এছাড়া জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন নামে একটি সংগঠন তৈরি করার ভুয়া প্রচারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন সেখানে অন্যরা আমার নাম দিয়েছে পরে এই কমিটি বাতিল
হয়ে গেছে। আর
কাতারস্থ আওয়ামীলীগ এর কমিটিতে আমার
নাম কিভাবে আসলো আমি তা জানি না। এগুলো আমার বিরুদ্ধে কিছৃ লোক অপপ্রচার করছে।
এ
বিষযে জানতে চাওয়া হলে সরাইল উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শাহ আলম ও সদস্য সচিব
মীর সামসুউদ্দিন জানান, আমরা তো জানি সে
বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত, তার ব্যাপারে ছাত্র হত্যা মামলা ও আওয়ামীলীগ সংশ্লিষ্টতা
পেলে আমরা সাংগঠিক ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।