জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কঠোর নজরদারি: ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসারদের ১৩ দফা দায়িত্ব
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ফিলিং স্টেশনগুলোতে মজুত ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ‘ট্যাগ অফিসারদের’ জন্য সুনির্দিষ্ট ১৩টি দায়িত্ব নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। রবিবার (২৯ মার্চ) জারি করা এক নির্দেশনায় এসব দায়িত্ব স্পষ্ট করা হয়।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ট্যাগ অফিসারদের প্রতিদিন ফিলিং স্টেশনের প্রারম্ভিক ও সমাপনী মজুত রেকর্ড করতে হবে। ডিপো থেকে তেল সরবরাহের সময় উপস্থিত থেকে পে-অর্ডার ও চালানের সঙ্গে পরিমাপ মিলিয়ে তেল গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ডিপ-রড বা ডিপ-স্টিক ব্যবহার করে মজুতের সঠিকতা যাচাই এবং নিয়মিত রেজিস্টার খাতা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
বিক্রয় কার্যক্রমেও থাকবে কঠোর নজরদারি। প্রতিটি পাম্পের ডিসপেন্সিং মেশিনের দৈনিক মিটার রিডিং পর্যবেক্ষণ করে বিক্রির হিসাব মিলিয়ে দেখতে হবে। তেল সরবরাহের সময় পরিমাপ সঠিক হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অনুমোদিত ক্ষমতার বাইরে কোনো অননুমোদিত ট্যাংক বা স্থাপনা আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ করতে ডিপো থেকে পাম্প এবং পাম্প থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে দৃশ্যমান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে দিনে অন্তত তিনবার—সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায়—স্টকের তথ্য আপডেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এছাড়া শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। ডিপো থেকে তেল নেওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে খুচরা বিক্রি শুরু করতে হবে। এই নিয়ম ভঙ্গ করলে প্রথমবার সতর্কতা, দ্বিতীয়বার মোবাইল কোর্ট এবং তৃতীয়বার লাইসেন্স সাময়িক স্থগিত করা হবে।
ট্যাগ অফিসারদের আরও দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে—পাম্প খোলা রাখা নিশ্চিত করা, সঠিক ক্যাশ মেমো প্রদান, কন্টেইনারে অবৈধ বিক্রি বন্ধ করা এবং দীর্ঘ সারি ব্যবস্থাপনা। এসব কার্যক্রম জিও-ট্যাগ প্রমাণসহ নিয়মিতভাবে রিপোর্ট আকারে জমা দিতে হবে।
সরকার বলছে, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং সাধারণ মানুষের কাছে নির্ধারিত মূল্যে তেল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই কঠোর তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
