
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের ডাবিরঘর গ্রাম, যে মাটি একদা সম্প্রীতির সবুজ সৌরভে মুখরিত ছিল, সেখানে একটি তুচ্ছ পাওনা টাকার দাবিকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মর্মান্তিক ঘটনায় অন্তত বিশজন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন, যেন গ্রামের নির্মল আকাশে হঠাৎই কালো মেঘের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় মুদি দোকানদার নুত আলমের ৩৩ হাজার টাকার বকেয়া পাওনার দাবি, যা স্থানীয় ইউপি সদস্য বিউটি বেগম ও তাঁর স্বামী কবির হোসেনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার সূত্রপাত ঘটায়, গত রোববার দুপুরে অতর্কিত হামলায় রূপ নেয়, এবং শান্ত গ্রামের বুকে রক্তের দাগে রাঙানো এক অশান্ত অধ্যায়ের জন্ম দেয়। নুর আলমের হৃদয়বিদারী চিৎকারে ছুটে আসা তাঁর আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কবির হোসেনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের আগুন জ্বলে ওঠে, যেখানে লাঠিসোঁটা, ক্ষোভের ধ্বনি, আর মানুষের আর্তনাদ গ্রামের প্রতিটি পথ-প্রান্তরকে কম্পমান করে।
এই সংঘাতে নুর আলম, তাঁর পিতা আবদুর রাজ্জাক, মা নুরজাহান বেগম, চাচি রুপা বেগম, এবং কবিরের পক্ষের সোহেল মিয়া ও সুমন আহমেদ রহমানসহ অন্তত বিশজন গুরুতর আহত হয়ে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যেন তাঁদের রক্তের প্রতিটি ফোঁটা সম্প্রীতির হারানো সুরকে ফিরিয়ে আনার নীরব আহ্বান জানাচ্ছে। নুর আলমের পুত্র সাব্বির আলমের কণ্ঠে বেদনার গভীরতা ফুটে উঠেছে, তিনি বলেন, “ন্যায্য পাওনা চাওয়ার অপরাধে আমার পরিবারের ওপর এমন নির্মম হামলা কেন? আমার বাবা, দাদা, দাদি, চাচি—সবাই হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন, এ কোন ন্যায়?” অপরপক্ষে, ইউপি সদস্য বিউটি বেগম হৃদয়ের গভীর থেকে শান্তির সুর তুলে বলেন, “আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে সবাইকে আপন মনে করি। এই সংঘর্ষ পুরনো মাজার-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে উসকে দেওয়া হয়েছে। আমার স্বামী কবিরের বন্ধু ছিলেন নুর আলম, কিন্তু বিরোধের বিচার করায় ক্ষোভের জন্ম হয়। আমার দেবর সোহেল ও সুমনও আহত, আমি চাই এই কলহের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা।”
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন, তিনি জানান, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক, তবে কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; এই ঘটনা যেন ডাবিরঘরের প্রতিটি হৃদয়ে শান্তি ও সমঝোতার বীজ বপন করে, যাতে এই গ্রাম আবার ফিরে পায় তার হারানো সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সোনালি দিন, এবং প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে জাগ্রত হয় একতার অমর সুর, যা বাংলার মাটিকে আলোকিত করবে চিরকাল।
