এক শহরের সুর—ব্রাহ্মণবাড়িয়া কেন দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত-তীর্থ

লেখক: জহির শাহ্
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

বিশেষ প্রতিবেদন : এক শহরের সুর—ব্রাহ্মণবাড়িয়া কেন দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত-তীর্থ?

২২ জুলাই ২০২৫

প্রারম্ভিকা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া—এ নামটি প্রথমে শুনলে সাধারণের চোখে ভেসে ওঠে সীমান্তঘেঁষা এক শহরের দৃশ্যপট, যেখানে ছুটে চলে ট্রাক, বাস আর মানুষভর্তি যানবাহন ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ধরে, হুইসেল বাজায় আখাউড়া রেলজংশনের ট্রেন, আর বাজারে বাজে হাকারের ডাক। কিন্তু ইতিহাস ও সংগীতের আলোয় দেখা যায় এক ভিন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া—যা কেবল একটি প্রশাসনিক জেলা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সংগীতচর্চার পবিত্র ভূমি, এক অদৃশ্য তীর্থক্ষেত্র, যেখানে মাটি ও মানুষের শিরায় শিরায় প্রবাহিত হয় সুরের নিরবিচ্ছিন্ন ধারা। কারণ এই শহরেই জন্মেছিলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তি সরোদশিল্পী ও সংগীতাচার্য, উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ—যিনি তাঁর সুর ও সাধনার মাধ্যমে শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়াকেই নয়, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতকে নিয়ে গেছেন বিশ্বমঞ্চে, দিয়েছেন এক নবজন্ম, এক নবধ্বনি। তাঁর গড়া মাইহার ঘরানা হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক সংগীত চর্চার এক দীপ্ত বাতিঘর, যেখান থেকে উঠে এসেছেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর, আলী আকবর খাঁর মতো কিংবদন্তিরা। এ শহরের অলিগলিতে, দালানের ছাদে, মেঠো রাস্তায় আজও ছড়িয়ে রয়েছে সেই সুর-স্মৃতি, যেখানে প্রতিটি নোট যেন সাক্ষ্য দেয়—ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংগীতেরই শহর, এক মহাজাগতিক রাগের জন্মভূমি। এই শহর কেবল বাঁশি আর তবলার শব্দে নয়, এক গভীর সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের প্রতিধ্বনি হিসেবেই টিকে আছে; এবং আজকের এই বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে আমরা খুঁজে ফিরি সেই সুরের উৎস—কেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শুধুই একটি জেলা নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত-তীর্থ।

উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ: এক কিংবদন্তির জন্ম
১৮৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ছিলেন না শুধুই এক সংগীতজ্ঞ, তিনি ছিলেন এক চলমান সুরযাত্রা, এক বিপ্লবী চেতনার নাম, যিনি ভারতীয় উপমহাদেশের সংগীত মানচিত্রে নিয়ে এসেছেন এক অনন্য রেনেসাঁ। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর প্রেম ছিল যেন একধরনের উন্মাদনা—সেই প্রেমের টানে তিনি পরিবার ত্যাগ করে বেরিয়ে পড়েন সুরের সন্ধানে, সংগীতের সাধনায়। ভারতের শ্রীরামপুর, গয়া, কোলকাতা হয়ে তিনি পা রাখেন মধ্যপ্রদেশের মাইহারের রাজদরবারে, আর সেখানেই গড়ে তোলেন তাঁর অনন্য সাধনার পীঠস্থান—মাইহার ঘরানা। এই ঘরানার ছায়ায় গড়ে ওঠেন পণ্ডিত রবিশঙ্কর, আলী আকবর খাঁ, নিকোলাস ক্যারট, আমজাদ আলী খান-এর মতো বিশ্বখ্যাত গুণীজন, যাঁরা শুধু তাঁর ছাত্র নন, ছিলেন তাঁর সংগীত দর্শনের ধারক ও বাহক। উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ছিলেন এক ‘সাউন্ড রেভল্যুশন’—তাঁর হাতেই যন্ত্রসংগীত পায় এক নতুন দিগন্ত, রাগ বিন্যাসে আসে নবছন্দ, আর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত হয়ে ওঠে এক আন্তর্জাতিক ভাষা। তিনি একাধিক বাদ্যযন্ত্রে পারদর্শী ছিলেন, এমনকি বহু বাদ্যযন্ত্র নিজেই তৈরি ও পরিমার্জন করেছেন, যেগুলোর শব্দ আজও গুনগুন করে বিশ্বমঞ্চে। শুধু শিল্পী নন, তিনি ছিলেন সংগীতের এক স্থপতি, যাঁর মস্তিষ্কে ছিল সুরের জ্যামিতি আর হৃদয়ে ছিল রাগের মহাসাগর। তাঁর সৃষ্টি, দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গি আজও পথ দেখায় শত সংগীত সাধককে, আর তাঁর জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে উঠেছে এক সুরতীর্থ, এক চিরকালীন শ্রদ্ধার ধ্বনি।
সঙ্গীতাঙ্গন: এক সংগীততীর্থ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিবপুর গ্রামে উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর পৈতৃক ভিটায় গড়ে ওঠা উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গন শুধু একটি সংগীত সংগ্রহশালা নয়, এটি এক জীবন্ত ইতিহাস, এক সুরভিত আত্মা, এক অবিনাশী সাধনার কেন্দ্র—যেখানে সংগীত কেবল শেখানো হয় না, অনুভব করানো হয়। এখানে সংরক্ষিত রয়েছে উস্তাদের নিজ হাতে বাজানো সরোদ, সেতার, তানপুরা, হারমোনিয়ামসহ বহু অমূল্য বাদ্যযন্ত্র, যা এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসেন দেশি-বিদেশি সংগীতপ্রেমী, গবেষক, পর্যটক থেকে শুরু করে ভারতীয় উপমহাদেশের খ্যাতিমান শিল্পীরাও। এই সঙ্গীতাঙ্গন যেন এক নীরব পাঠশালা, যেখানে প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি করিডোর, প্রতিটি যন্ত্র যেন বলে—”এইখানেই সুরের ঈশ্বর থাকতেন।” এখানে নিয়মিত আয়োজন হয় স্মরণসভা, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ফেস্টিভাল—যাতে অংশ নেন পণ্ডিত, উস্তাদ, গুরু ও তরুণ শিল্পীরা; তারা শুধু উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই নয়, তাঁর রেখে যাওয়া সুরের উত্তরাধিকার বহন করতে আসেন। এই প্রতিষ্ঠান আজ বাংলাদেশের সংগীত গবেষণা ও প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে এক শিল্পীর আত্মার সুর আজও বাতাসে ভেসে বেড়ায়। কারণ, একজন প্রকৃত শিল্পীর স্মৃতি কখনও কেবল একটি বাড়িতে বা যন্ত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না—তা ছড়িয়ে পড়ে তাঁর জন্মভূমির মাটি, বাতাস, মানুষের কণ্ঠ ও চেতনায়, আর এই ‘সঙ্গীতাঙ্গন’ সেই চেতনারই এক দীপ্ত মন্দির, এক শুদ্ধ তীর্থক্ষেত্র, যা যুগ যুগ ধরে সংগীতসাধকদের জন্য অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংগীত ঐতিহ্য: একটা জেনেটিক কোড?
ব্রাহ্মণবাড়িয়া—এ যেন শুধু সংগীতের শহর নয়, বরং এক অদৃশ্য সুরের জেনেটিক কোড, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম বয়ে নিয়ে চলেছে সংগীতের বীজ, সুরের উত্তরাধিকার। উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর হাত ধরে যে সংগীত-দ্বীপের জন্ম, তা নিভে যায়নি, বরং জ্বলে উঠেছে আরও উজ্জ্বল হয়ে, তাঁর উত্তরসূরিদের হাত ধরে। এই শহরের পরিবেশ, মাটি, হাওয়া আর পারিবারিক রেওয়াজ এমনভাবে গড়ে উঠেছিল যে, যেন প্রতিটি পরিবারই ছিল একেকটা মিউজিক্যাল ইনস্টিটিউট—সেখানে জন্ম নিয়েছেন: ওস্তাদ আয়েত আলী খাঁ (তাঁর ভাই, সরোদ শিল্পী), ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ (ছেলে), ওস্তাদ বাহাদুর হোসেন খান (ভাইপো), ওস্তাদ খুরশীদ খান (নাতি)—প্রত্যেকেই উপমহাদেশীয় সংগীতের আকাশে আলাদা আলাদা তারা, যাঁদের উজ্জ্বলতা একত্রে মিলে সৃষ্টি করেছে এক পূর্ণ জ্যোতির্মণ্ডল। এ এক সাংস্কৃতিক বিস্ময়, যেখানে রক্তে ছিল রাগ, শিরায় ছিল সুর, আর হৃদয়ে ছিল সংগীতের নিরলস সাধনা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া যেন সংগীতের এমন এক ভূখণ্ড, যেখানে শিশুর কান্নাও সুরে বাঁধা, আর প্রতিটি নিঃশ্বাস যেন এক রাগের প্রস্তুতি। এমন সাংস্কৃতিক মনন, পরিবেশ আর ঐতিহ্য একেবারে দৈব নয়—এ যেন এক জিনগত সঞ্চালন, এক উত্তরাধিকার, যা শুধুই খায়-দায়-ঘুমায় না, বরং গায়, বাজায়, শেখায় এবং বিশ্বকে মোহিত করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া তাই দক্ষিণ এশিয়ার সংগীত মানচিত্রে কেবল একটি বিন্দু নয়, এটি এক কম্পনকেন্দ্র, এক সাউন্ড জেনেটিক ল্যাবরেটরি—যেখান থেকে উৎসারিত হয় যুগান্তকারী সুরঝংকার।
বিশ্বসংগীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাপ
পণ্ডিত রবিশঙ্করের একটি কথাই বলে দেয় সব—“আমার সংগীত জীবনের ভিত্তি তৈরী হয়েছিলো যে মানুষটির হাতে, তিনি বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ।” এই একটি বাক্যে ফুটে ওঠে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংগীতিক গৌরব, যা শুধু জাতীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র বিশ্বমঞ্চে। উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ও তাঁর উত্তরসূরিরা শুধু বাংলাদেশের অহংকার নন, তাঁরা ভারত, ইউরোপ, আমেরিকা, এমনকি জাপানের সংগীতাঙ্গনে শাস্ত্রীয় সংগীতের দূত, একেকজন বয়ে এনেছেন পূর্বের সুর, রাগ, তাল ও ভাবধারার জয়গান। এই মাটি থেকে উঠে আসা শিল্পীরা তাঁদের হাতে তুলে নিয়েছেন সেতার, সরোদ, তবলা, আর তানপুরা—আর সেই হাত ধরে সংগীত পৌঁছে গেছে টোকিওর কনসার্ট হল থেকে লন্ডনের রেডিও স্টুডিও, কিংবা নিউ ইয়র্কের সিম্ফোনি থিয়েটারে। আজকের দিনে উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে ডকুমেন্টারি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাঁর জীবন ও সংগীতচর্চা নিয়ে হচ্ছে থিসিস, এবং অনেকে তাঁকে নিয়ে মিউজিকাল ফিল্ম বানানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন—যা প্রমাণ করে, এই শহরের এক সন্তান কেবল নিজেকে নয়, নিজের শহরকেও পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বসংগীতের মানচিত্রে এক অবিস্মরণীয় স্থান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া তাই কেবল একটি জেলার নাম নয়, এটি হয়ে উঠেছে এক সাংস্কৃতিক ব্যাকরণ, এক সংগীতিক ডিএনএ, যার প্রতিটি অনুতে লুকিয়ে আছে সুর, সাধনা ও স্বপ্নের এক নিরবধি যাত্রা।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও করণীয়
যতই সময় এগিয়ে যাচ্ছে, ততই আমরা যেন ধীরে ধীরে ভুলে যাচ্ছি সেই মহামানবের নাম—উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, যার সুরে জেগে উঠেছিলো উপমহাদেশের সংগীতচর্চার এক নবযুগ, আর যাঁর হাত ধরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে উঠেছিলো দক্ষিণ এশিয়ার সংগীততীর্থ। কিন্তু আজ তাঁর স্মৃতি, অবদান, দর্শন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে ধুলোয়, নীরবতায়, অবহেলায়। এখনই সময়, এই মহাসাধকের উত্তরাধিকারকে রক্ষা করার, পুনর্জীবিত করার, ছড়িয়ে দেওয়ার দেশ-দেশান্তরে। আমাদের করণীয় একগুচ্ছ সুসংগঠিত পদক্ষেপের মাধ্যমে: (১) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় “উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ বিশ্ববিদ্যালয়” প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সংগীতশিক্ষা হবে প্রাতিষ্ঠানিক, আন্তর্জাতিক মানের, আর নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠবে সংগীতজ্ঞ হিসেবে; (২) প্রতি বছর আয়োজন করা আন্তর্জাতিক সংগীত উৎসব, যেখানে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইউরোপ, আমেরিকার কিংবদন্তি শিল্পীরা আসবেন, এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিণত হবে বিশ্বসংগীতের মিলনমেলায়; (৩) ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সঙ্গীত শহর’ ঘোষণা করে সেখানে একটি স্থায়ী মিউজিক আর্কাইভ ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে থাকবে রেকর্ডিং, ইতিহাস, বাদ্যযন্ত্র ও আলাউদ্দিন খাঁর জীবনের প্রতিটি ধাপের দলিল; (৪) তরুণ প্রজন্মকে সংগীতচর্চায় যুক্ত করতে স্কুল-কলেজে কর্মশালা, প্রতিযোগিতা ও ফেস্টিভালের মাধ্যমে উৎসাহিত করা, যাতে সুর, সাধনা ও সংস্কৃতির শিকড় আবার গভীর হয় এই প্রজন্মে। যদি আমরা এখনই উদ্যোগ না নেই, তাহলে শুধু এক কিংবদন্তিকেই হারাবো না, হারাবো এক গর্ব, এক ইতিহাস, এক সাংস্কৃতিক পরিচয়—যা একবার হারিয়ে গেলে আর ফিরে আসবে না কখনোই।
এই মাটি, এই সুর, এই অহংকার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া—এটি কেবল রাজনীতি, সীমান্ত বা যানজটের এক শহর নয়; এটি এক সুরভরা জনপদ, এক সংগীত-সিন্ধু, এক ঐতিহ্যের ধ্বনি—যেখানে প্রতিটি বাতাসে, প্রতিটি মানুষের আত্মায়, প্রতিটি শিশুর কণ্ঠে অনুরণিত হয় রাগ-তাল-লয়ের এক অবিনশ্বর গল্প। উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ ছিলেন না শুধুই একজন মানুষ—তিনি ছিলেন এক চলমান একাডেমি, এক সংগীতময় গ্রন্থ, এক জীবন্ত বিশ্ববিদ্যালয়, যাঁর রক্তে, সুরে, সাধনায় যে আগুন জ্বলেছিল, তা আজও নিঃশব্দে জ্বলছে এই শহরের প্রতিটি মাটির দলিতে, প্রতিটি মানুষের মেধায় ও মননে। তিনি যাঁদের শিক্ষা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্য দিয়ে তাঁর সংগীত দর্শন শুধু টিকে নেই—তা আজও বিশ্বসংগীতের বুকে বাজছে এক অনন্ত ধ্বনির মতো। এখন প্রশ্ন একটাই—আমরা কি পারবো তাঁকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে? পারবো কি ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে ‘সঙ্গীতনগরী’ হিসেবে গড়ে তুলতে, যেখান থেকে আবারও জন্ম নেবে নতুন নতুন উস্তাদ, পণ্ডিত, গুরু ও শিল্পী? যদি পারি, তবে সেটিই হবে আমাদের পক্ষ থেকে উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র প্রতি সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা, সবচেয়ে বড় সম্মান, সবচেয়ে বড় সংগীত।