দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী লিলি হত্যা: বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াও’ বলায় বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন
রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার লিলি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি হোটেল কর্মচারী মো. মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পেছনে প্রেমঘটিত বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীটি।
সোমবার সকালে পাঠানো এক বার্তায় র্যাব জানায়, নিহত লিলির সঙ্গে অভিযুক্ত মিলনের আগে থেকে সুসম্পর্ক ছিল। দুজনের মধ্যে পালিয়ে যাওয়ার কথাও আলোচনা হয়েছিল। তবে শেষ মুহূর্তে লিলি সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যা করে মিলন।
র্যাবের তথ্যমতে, জিজ্ঞাসাবাদে মিলন স্বীকার করেছে—লিলি বিভিন্ন সময় ইঙ্গিতের মাধ্যমে তার প্রতি প্রেমের অনুভূতি প্রকাশ করত। পরিবারের সদস্যরা বাড়ি থেকে গ্রামের বাড়িতে গেলে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন দুপুরে মিলন লিলিকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। কিন্তু লিলি এতে রাজি না হয়ে জানায়, রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে সে কোনো রেস্তোরাঁ কর্মচারীর সঙ্গে যাবে না। এ সময় সে মিলনকে কটূক্তি করে বলে, ‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াও।
র্যাব জানায়, এই প্রত্যাখ্যান ও কথাবার্তায় ক্ষুব্ধ হয়ে মিলন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য আরও জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে শনিবার (ঘটনার দিন) দুপুরে দক্ষিণ বনশ্রীর ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি বাসায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত ফাতেমা আক্তার লিলি (১৭) স্থানীয় রেডিয়েন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার বামৈন গ্রামের সজীব মিয়ার মেয়ে।
এ ঘটনায় রোববার সকালে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় হোটেল কর্মচারী মো. মিলন মল্লিককে প্রধান আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, শনিবার বিকেলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লিলিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
নিহতের বড় বোন সোভা শুরু থেকেই মিলনের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, তাদের একটি খাবারের হোটেল রয়েছে এবং মিলন সেখানে কাজ করত। বৃহস্পতিবার রাতে খাবার নেওয়ার জন্য মিলন বাসায় এলে এত রাতে আসা নিয়ে লিলির সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। শনিবার দুপুরেও মিলন খাবার নিতে এলে তার আচরণ অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল বলে জানান তিনি।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সোভা বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে আমি জিমে যাওয়ার সময় লিলিকে দরজা লক করে দিতে বলি। তখন মিলনও বাসা থেকে বের হয়েছিল। পরে ফিরে এসে দেখি দরজা খোলা, ঘরের ভেতর সবকিছু এলোমেলো। মেঝেতে আমার বোন পড়ে ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর হিজাব খুলে দেখি তার গলায় রশি পেঁচানো এবং গলা কাটা।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
