দিল্লি বা ইসলামাবাদ নয়, তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন পথে বাংলাদেশ

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ৬ মাস আগে
দিল্লি বা ইসলামাবাদ নয়, তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন পথে বাংলাদেশ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের দুই বছর পর বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী রায় দিয়েছে। জনগণ এমন এক নেতাকে নির্বাচিত করেছেন, যিনি দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক পরিসরে কূটনৈতিক পুনঃসমন্বয়ের প্রতিশ্রুতি নিয়ে এসেছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্বে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অস্থির সময় পার করে জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। ২০২৪ সালে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম দমনপীড়নের পর শেখ হাসিনার পতনের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থান চূড়ান্ত রূপ লাভ করে, যেখানে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন নিহত হন। শেখ হাসিনা দেশের বাইরে দিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি করে।

শাসনকালে শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখলেও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বিস্তৃত করেছিলেন। বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, গুম এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগও ছিল। ভারতপন্থী আঞ্চলিক কূটনীতিতে তার সরকার নজর কষিয়েছিল, যার ফলে সীমান্ত, জ্বালানি ও পানি বণ্টনের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সমাধান হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসে তিন দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো স্বাধীন অবস্থান বজায় রেখে ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করছেন। অন্তর্বর্তী সরকার ইসলামাবাদের সঙ্গে দ্রুত সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছিল, যা বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই নির্বাচনী ফলাফল শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পুনর্গঠন নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও নতুন বার্তা দিয়েছে। বাংলাদেশ আর কোনো এক শক্তির ‘পিছনের উঠান’ নয়; দেশটি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলবে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশের কণ্ঠস্বরকে দৃঢ় করবে, পুরোনো সম্পর্কগুলো পুনর্মূল্যায়ন করবে এবং বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে দক্ষিণ এশিয়ায় আত্মবিশ্বাসী ও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

  • তারেক রহমানের হাত ধরে নতুন পথে বাংলাদেশ
  • দিল্লি বা ইসলামাবাদ নয়