দেশে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম এবং হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৯ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ দেখা গেছে আরও এক হাজার ১৩৬টি শিশুর মধ্যে। সব মিলিয়ে গত এক দিনে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে এক হাজার ২০৫টি শিশু ভর্তি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশে হামের সন্দেহে মোট হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ১৯৪ জনে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্ট ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৯ হাজার ২৬০ জন শিশু।
তবে আশার কথা হলো, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৭ হাজার ৪৩টি শিশু। বিজ্ঞপ্তিতে মৃত্যুর বিশদ বিবরণে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে একজন নিশ্চিতভাবে হামে এবং বাকি তিনজন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে ৯১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৫১৪ জনসহ সর্বমোট ৬০৫টি শিশুর প্রাণহানি ঘটল।
বিভাগভিত্তিক সংক্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ সংক্রমণ ও রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যার সংখ্যা ৪৮৫ জন। সংক্রমণের তালিকায় এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ যেখানে ২৩০ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৫৮ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে।
এছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহীতে ৭৩ জন, খুলনায় ৬৮ জন, সিলেটে ৬১ জন, ময়মনসিংহে ৩৮ জন এবং রংপুর বিভাগে ২৩টি শিশু হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, দেশে হামের এই প্রাণঘাতী রূপ গত কয়েকদিন ধরেই চরম আকার ধারণ করেছে; যার ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ও ২৫ মে হাম ও এর উপসর্গে একদিনে ১৭ জন এবং তার আগের দিন ২৪ মে একদিনে ১৬টি শিশুর মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।