মো মনির হোসাইন: বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের জলবায়ু, পলি এবং সংস্কৃতি প্রতিটিই নদ-নদীর প্রবাহের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় দখল, দূষণ আর পরিচর্যার অভাবে আমাদের অধিকাংশ নদ-নদী আজ বিপন্ন। ঠিক এই সংকটকালে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষায় যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম অগ্রগণ্য নাম শামীম আহমেদ।
আজ নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’-এর স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক শামীম আহমেদের শুভ জন্মদিন।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিপন্ন প্রকৃতি ও নদী সুরক্ষায় তাঁর নিরলস পথচলা সারা দেশের পরিবেশপ্রেমী ও যুবসমাজকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা জুগিয়ে চলেছে।
নদী বাঁচানোর এই লড়াই সহজ ছিল না। নদী দখলের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই তিনি সোচ্চার থেকেছেন এবং শিল্পবর্জ্য ও প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে গড়ে তুলেছেন সামাজিক প্রতিরোধ।
প্রকৃতির অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে তিনি সর্বমহলে পরিচিত লাভ করেছেন। দেশের প্রতিটি প্রান্তরে পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা থেকেই জন্ম নেয় সামাজিক সংগঠন ‘তরী বাংলাদেশ’।
এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য নদীগুলোর হারানো নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সমাজকে সচেতন করা। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে সংগঠনটি আজ এক বিশাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে, যেখানে হাজারো তরুণ সরাসরি যুক্ত হয়ে কাজ করছে।
শামীম আহমেদ কেবল একজন সংগঠক নন, তিনি একজন দূরদর্শী নেতা। তিনি প্রতিটি নদীকে মায়ের মতো ভালোবেসেছেন এবং নদী তীরের মানুষের দুঃখ-কষ্ট খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছেন।
নদীর নাব্যতা ফেরাতে তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বারবার। গাছ লাগানো ও বনায়ন সৃষ্টিতে তাঁর প্রত্যক্ষ অবদান রয়েছে। প্রকৃতির পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং বিপন্ন নদীর অধিকার আদায়ে তাঁর কণ্ঠ সবসময় ধ্বনিত হয়।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। নদীর গতিপথ রুদ্ধ করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে তাঁর গড়ে তোলা আন্দোলন সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করে।
বিপন্ন প্রকৃতি আগলে রাখার কাজে তিনি চিরকাল সামনের সারির যোদ্ধা। যেখানেই প্রকৃতির ওপর আঘাত এসেছে, সেখানেই তিনি প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করেছেন।
তাঁর হাত ধরে হাজারো স্বেচ্ছাসেবী আজ প্রকৃতি রক্ষায় নিয়োজিত এবং তরী বাংলাদেশ দেশের অন্যতম শীর্ষ সামাজিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি জেলায় সংগঠনটির কর্মীরা তাঁর আদর্শে কাজ করছেন। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে একটি মহৎ চিন্তা সমাজকে বদলে দিতে পারে।
বাংলাদেশের হাজারো নদী আজ দখলদারদের কবলে এবং পলি জমে নদীগুলো নাব্যতাহীন হয়ে পড়েছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে শামীম আহমেদ তুলে ধরেছেন বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক সমাধানের পথ। তিনি বৈজ্ঞানিক উপায়ে নদী খননের পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণে নদী পারের পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন।
সংবাদমাধ্যমে তাঁর জোরালো অবস্থান সুশীল সমাজকে নাড়া দিয়েছে। নদী রক্ষার লড়াইয়ে কোনোদিন আপস না করা এই মানুষটি চান প্রতিটি নদী আবার তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পাক এবং নদীভিত্তিক জীবিকার মানুষগুলো সুখে থাকুক।
শামীম আহমেদের এই শুভ জন্মদিনে সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ভালোবাসার পাশাপাশি ‘পথিক পরিবার’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আন্তরিক অভিনন্দন। পথিক পরিবারের প্রতিটি সদস্য তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে গভীর শ্রদ্ধা ও অনাবিল শুভেচ্ছা প্রকাশ করেছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, নদী ও প্রকৃতির এই অনন্য কারিগরের হাত ধরে দেশীয় নদী আন্দোলন আরও বহুদূর এগিয়ে যাবে। নদীর মতো বহমান হয়ে তিনি যেন হাজার বছর বেঁচে থাকেন এবং পরিবেশ রক্ষার এই যাত্রা আরও সফল হয়, এটিই সবার প্রত্যাশা।
তরী বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশকে আবার সবুজ ও নদীময় করে গড়ে তোলা। শামীম আহমেদের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে নদী সুরক্ষায় নতুন সামাজিক ও আইনি সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রকৃতির গুরুত্ব তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরছেন।
তাঁর জন্মদিনে একটাই অঙ্গীকার—দেশের নদীগুলোর নাব্যতা যেন ফিরে আসে এবং প্রকৃতি ও মানুষকে ভালোবেসে তাঁর জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত সার্থক হয়। শুভ জন্মদিন, নদী ও প্রকৃতির নিঃস্বার্থ আলোকবর্তিকা শামীম আহমেদ!

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।