নবজীবনে নতুন মফস্বল সম্পাদক: এ আর সাইফুল ইসলাম এর জীবন সংগ্রাম

লেখক: ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় সততা, সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে সাংবাদিকতার মাঠে নিরলসভাবে কাজ করে আসা এ আর সাইফুল ইসলাম সম্প্রতি দৈনিক নবজীবন পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তাঁর এই নতুন দায়িত্ব কেবল নবজীবনের জন্য নয়, মফস্বল সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

শুরুর গল্প: ছোট সূচনা থেকে বড় যাত্রা

২০০৩ সালে জাতীয় দৈনিক ইনসানিয়াতে ফটো জার্নালিস্ট এ আর মজিদ শরীফের সহকারী হিসেবে সাংবাদিকতার পথচলা শুরু হয় এ আর সাইফুলের। সেই সঙ্গে তিনি সাপ্তাহিক দেওয়ানবাগ পত্রিকা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন এবং শহরের দেয়ালে পোস্ট করতেন, যাতে ধর্মীয় বিষয়গুলো সাধারণ মানুষ সহজে পড়তে পারে। এই ছোট অভিজ্ঞতাই তাঁকে সংবাদ জগতে প্রবেশের পথ দেখায়।

ক্রমে তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন—মুক্ত খবরের স্টাফ রিপোর্টার, অনলাইন চ্যানেল টুয়েন্টি ওয়ানের নিজস্ব প্রতিনিধি, মাসিক ডিজিটাল ‘তারিফ বার্তা’র সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার। এছাড়া তিনি আজকালের সংবাদ, ঢাকার বার্তা, স্বদেশ বিচিত্রা, নতুন সময় এবং বর্তমান কাগজের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি বর্তমান কাগজে সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব শেষে নবজীবনে নতুন অভিযাত্রা শুরু করেছেন।

বহুমুখী প্রতিভা

সাংবাদিকতার পাশাপাশি অভিনয় ও সংস্কৃতির অঙ্গনেও এ আর সাইফুলের অবদান রয়েছে। ২০০৯ সালে জবসএওয়ান.কম-এর নিউজ প্রেজেন্টেশন কোর্স সম্পন্ন করেন। ২০১০ সালে নাট্যপরিচালক আরমান কইয়ার নাটকে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন এবং সেই বছর রমজানের ঈদে প্রচারিত নাটকে অংশ নেন। ইতিমধ্যে তিনি প্রায় ১০টি শর্টফিল্ম নির্মাণ করেছেন এবং একটি তামিল শর্টফিল্মেও কাজ করেছেন। ফ্যাশন ও মডেলিং-এও যুক্ত ছিলেন; এবিআর গ্রুপ র‍্যাম ফ্যাশন ও বিনোদন ভূবন ম্যাগাজিনে কাজ করেছেন।

শিক্ষক ও সাহিত্যিক

শিক্ষক হিসেবেও তিনি রেখেছেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ২০০৬–২০০৯ সাল পর্যন্ত সম্রাট একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে ‘অ’ ‘আ’ পাঠশালা হাই স্কুলে কোন টাকা বিনিময় ছাড়া প্রথম গণজাগরণী শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ২০১৭ সালে স্ট্যান্ডার্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পিআর অফিসার ও সহকারী শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হন।
সাহিত্যচর্চাতেও সক্রিয়। ২০১০ সালে রামগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ‘নবদূত’-এ তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়। তিনি বাংলাদেশ বুক ক্লাবের সদস্য।

সমাজসেবায় সক্রিয়তা

এ আর সাইফুল ইসলাম সমাজসেবায়ও সমানভাবে সক্রিয়। হেল্পিং হ্যান্ড নামের অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রেস ইউনিয়ন সোসাইটির দপ্তর সম্পাদক, হিউম্যান রাইটস এন্ট্রি ক্রাপশন সোসাইটির চীফ ক্রাইম কো-অর্ডিনেটর এবং জাতীয় পরিবেশ মানবাধিকার সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ

তিনি বিবিএ পাস করেছেন এবং অটো মেকানিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, ড্রাইভিং (টু ও হোয়েলার ও ফোর হোয়েলার), কম্পিউটার ডাটাবেস ও গ্রাফিক্স ডিজাইনসহ বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করেছেন। এছাড়া এনএসআই-এর জন্য বিশেষ ভাষাগত প্রশিক্ষণ, মাদার সার্টলিপি প্রশিক্ষণ এবং সাইফুর’স থেকে এইচএসসি কোর্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-তে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স করছেন।

নতুন যাত্রা, নতুন প্রতিশ্রুতি

নবজীবনে যোগদানের পর এ আর সাইফুল ইসলাম বলেন,

“প্রকাশক ও সম্পাদক নুরুন্নাহার রিতা আপার দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে আমি মফস্বল সাংবাদিকতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নবজীবনের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবো। আমার প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে এটিকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেবো, ইনশাআল্লাহ।”

উপসংহার

সাংবাদিকতা তার কাছে শুধু একটি পেশা নয়, বরং একটি অঙ্গীকার। মফস্বল থেকে রাজধানীর বড় বড় ইস্যু পর্যন্ত সত্য প্রকাশে তিনি ছিলেন আপসহীন। নবজীবনে তাঁর নতুন পদক্ষেপ মফস্বল সাংবাদিকতায় এক আলোকিত অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।