চট্টগ্রাম বিশেষ প্রতিনিধি : আহমদ রেজা : পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি ও বাঙালি যুবসমাজকে বাস্তবমুখী কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে গড়ে তোলা, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে আয়োজিত দুই সপ্তাহব্যাপী মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নানিয়ারচর জোন সদর দপ্তরে শুরু হওয়া প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এতে পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মোট ১৪ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ চলাকালে মোবাইল সার্ভিসিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের সুযোগ সৃষ্টি এবং আত্মকর্মসংস্থানে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের শুরুতেই প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে প্রয়োজনীয় মোবাইল সার্ভিসিং টুলস প্রদান করা হয়। এসব টুলস ব্যবহার করে প্রশিক্ষণার্থীরা হাতে-কলমে মোবাইল ফোন সার্ভিসিংয়ের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং সফলভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন।
এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পথ সুগম হয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীরা অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ এলাকায় মোবাইল ফোন সার্ভিসিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নানিয়ারচর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, পিএসসির দিকনির্দেশনায় আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন। এ সময় প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষক, আয়োজক এবং অন্যান্য সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলাই ছিল এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষণার্থীরা নিজেদের ও পরিবারের আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় আর্থসামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখতে সক্ষম হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নানিয়ারচর জোনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পার্বত্য অঞ্চলের যুবসমাজকে দক্ষ, কর্মঠ ও আত্মনির্ভরশীল জনশক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।