— বিজ্ঞাপন —

পাপুয়া নিউগিনিতে চীনের সন্দেহজনক বস্তু নিয়ে বেইজিং-ওয়াশিংটন বাগ্‌যুদ্ধ

পাপুয়া নিউগিনিতে কনটেইনার থেকে উদ্ধার হওয়া ৩২ কেজি ওজনের একটি সন্দেহজনক বস্তু ঘিরে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পাপুয়া নিউগিনিতে চীনের সন্দেহজনক বস্তু নিয়ে বেইজিং-ওয়াশিংটন বাগ্‌যুদ্ধ
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ন

পাপুয়া নিউগিনিতে উদ্ধার হওয়া ৩২ কেজি ওজনের একটি সন্দেহজনক বস্তুকে কেন্দ্র করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র বাগ্‌যুদ্ধ শুরু হয়েছে। পাপুয়া নিউগিনির রাজধানী পোর্ট মোরেসবির একটি নির্মাণাধীন স্থাপনার কনটেইনার থেকে বস্তুটি উদ্ধার করা হয়। এরপর বিষয়টি বিশ্বরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উদ্ধার হওয়া বস্তুটিকে চীন গোলার আকৃতির একটি নিরীহ মদের বোতল বলে দাবি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, বস্তুটি মোটেও কোনো মদের বোতল নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী অবিস্ফোরিত কামানের গোলা। বস্তুটির উদ্ধারের ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ চার চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে।

পোর্ট মোরেসবিতে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক ফেসবুক বার্তায় দাবি করেছে, গোলার মতো দেখতে ওই পাত্রটিতে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। চীনের কঠোর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের কথা উল্লেখ করে তারা জানায়, দেশটিতে সামরিক গ্রেডের কোনো কামানের গোলা অবৈধভাবে বাইরে পাচার করা প্রায় অসম্ভব।

তবে অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবিসির প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া বস্তুটি বেইজিংয়ের তৈরি ১৩০ মিলিমিটারের ‘টাইপ ৫৯’ অবিস্ফোরিত কামানের গোলা, যার ভেতরে রাসায়নিক বিস্ফোরক ও ফিউজ রয়েছে। পাপুয়া নিউগিনি পুলিশকে দেওয়া অস্ট্রেলিয়ার একটি এক্স-রে মেশিনের সাহায্যে পরীক্ষার পর বস্তুটির এই পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পোর্ট মোরেসবিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা পাপুয়া নিউগিনির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে। সব তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে মার্কিন প্রশাসন নিশ্চিত হয়েছে যে এটি জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত মারাত্মক একটি অবিস্ফোরিত গোলা। ওয়াশিংটন এই তদন্তের পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

আমেরিকান দূতাবাস স্থানীয় পুলিশ ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাহসিকতার প্রশংসা করেছে। পাপুয়া নিউগিনির জনগণ, তাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ওয়াশিংটন সব সময় পাশে থাকবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, চীনা দূতাবাস থেকে বলা হয়েছে যে তারা স্থানীয় পুলিশের তদন্ত কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করছে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনের এই ‘মদের বোতল’ সংক্রান্ত দাবিটি তীব্র সমালোচনা ও হাস্যরসের মুখে পড়েছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বিরাজমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা ঘটল। এর আগে বেইজিং তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার অংশ বলে দাবি করলেও, নতুন এই ঘটনা উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।

সূত্র: প্রথম আলো
পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗