আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ন
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের পুলিশি ব্যবস্থায় জরুরি সংস্কার না করা হলে পুরো ব্যবস্থাটি ব্যর্থতার দিকে এগোচ্ছে বলে মারাত্মক সতর্কবার্তা দিয়েছেন মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান স্যার মার্ক রউলি। আধুনিক অপরাধীদের জটিলতার সাথে বিদ্যমান পুলিশি ব্যবস্থা আর টিকে থাকতে পারছে না বলে মনে করেন তিনি।
১৯৬০-এর দশকের পর সবচেয়ে বড় সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে স্যার মার্ক রউলি ৮ থেকে ১০টি আঞ্চলিক পুলিশ বাহিনী, শত শত স্থানীয় পুলিশ কমান্ড এবং একটি নতুন ‘ন্যাশনাল পুলিশ সার্ভিস’ গঠনের দাবি জানিয়েছেন। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো বিদ্যমান ৪৩টি পুলিশ বাহিনীর কাঠামো পরিবর্তন করে তিন স্তরের একটি আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
স্যার মার্ক রউলি জানান, সংগঠিত অপরাধী চক্র, জালিয়াতি নেটওয়ার্ক, সাইবার অপরাধী এবং অনলাইনে শিশু নিপীড়নে জড়িত অপরাধীরা ভৌগোলিক ও আন্তর্জাতিক সীমানা পেরিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অন্যদিকে বর্তমান পুলিশ বাহিনীগুলো এখনও সেই ১৯৬০-এর দশকের স্থানীয় এলাকাভিত্তিক চিন্তাধারায় পরিচালিত হচ্ছে।
বিবিসি ব্রেকফাস্টে দেয়া সাক্ষাৎকারে স্যার মার্ক বলেন, বিগত বছরগুলোতে অপরাধের ধরন অনেক বদলে গেছে, কিন্তু পুলিশ এখনও ৬০ বছর আগের নিয়মে সংগঠিত। বর্তমানে ৪৩টি সীমাবদ্ধতার শিকার পুলিশ বাহিনী খুব সামান্য সম্পদ নিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছে। প্রস্তাবিত একীভূতকরণ হলে কাজের দ্বৈততা কমবে এবং হাজার হাজার পদ পুনরায় মাঠপর্যায়ের পুলিশিংয়ে যুক্ত হতে পারবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০১০ সাল থেকে জিডিপির তুলনায় পুলিশ খাতে ব্যয় ০.৯ শতাংশ থেকে কমে ০.৭ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রযুক্তিগত অনগ্রসরতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক যত্নের মতো অন্যান্য খাতে ব্যস্ত থাকার ফলে মূল পুলিশিং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে গত ১২ বছরের তুলনায় জাতীয়ভাবে অপরাধ সমাধানের হার অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে এবং জনগণের আস্থা ৯ শতাংশ কমেছে।
প্রস্তাবিত এই সংস্কারের পথে কিছু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতাও দেখা দিয়েছে। গত জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ন্যাশনাল পুলিশ সার্ভিস গঠনের সমর্থনে কথা বলেছিলেন। তবে জুলাই মাসে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে এই পরিকল্পনা বিষয়ে স্পষ্ট মন্তব্য না করায় পুলিশ প্রধানদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এদিকে কিছু গ্রামীণ পুলিশ ও ক্রাইম কমিশনার এবং অ্যাসোসিয়েশন অফ পুলিশ অ্যান্ড ক্রাইম কমিশনার্স (এপিসিসি) এই মেগা-বাহিনী গঠনের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, পুলিশ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও জাতীয় সেবা গঠনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হলেও ৪৩টি বাহিনীকে নয়টি মেগা-বাহিনীতে রূপান্তরের যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়নি।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।