পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা চরমে: আমিরাত-বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম শিল্পে ইরানের হামলার দাবি

লেখক: Sanjida
প্রকাশ: ১ মাস আগে
পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা চরমে: আমিরাত-বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম শিল্পে ইরানের হামলার দাবি

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মার্কিন সামরিক ও মহাকাশ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি বড় অ্যালুমিনিয়াম শিল্প স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স ও নৌবাহিনী যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। লক্ষ্যবস্তু ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম’ এবং বাহরাইনের ‘অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন’ কারখানা। ইরানের দাবি, এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান মার্কিন সামরিক-শিল্প উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং আমিরাতের কারখানাটি মার্কিন বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বে পরিচালিত।

আইআরজিসি জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর ইরানের শিল্প অবকাঠামোর ওপর চালানো হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতে যে কোনো আগ্রাসনের জবাব আরও কঠোরভাবে দেওয়া হবে এবং শত্রুপক্ষের সামরিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

এদিকে হামলার পর আমিরাতভিত্তিক ‘এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম’ নিশ্চিত করেছে, আবুধাবির আল তাওয়িলাহ এলাকায় অবস্থিত তাদের প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ছয়জন কর্মী আহত হয়েছেন। অপরদিকে, বাহরাইনের কারখানায় হামলায় দু’জন কর্মচারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষক জেইন বাসরাভি জানিয়েছেন, বিশ্বের মোট অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৯ শতাংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

শুধু শিল্প খাতই নয়, এই সংঘাতের প্রভাব পড়ছে সামুদ্রিক যোগাযোগেও। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ইতোমধ্যে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানা গেছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে ইরান ও মার্কিন-ইসরাইল সংঘাতের পঞ্চম সপ্তাহে এসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ওমান, কুয়েত ও সৌদি আরবেও। ওমানের সালালাহ বন্দরে ড্রোন হামলায় একজন কর্মী আহত হওয়ার পর ডেনিশ শিপিং প্রতিষ্ঠান ‘মারস্ক’ সেখানে সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। ওমান সরকার এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা সাম্প্রতিক সময়ে আকাশে ১০টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ডও তাদের আকাশসীমায় চারটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি এভাবে ধারাবাহিকভাবে পাল্টা হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গভীরভাবে পড়তে পারে।

  • পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা চরমে: আমিরাত-বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম শিল্পে ইরানের হামলার দাবি