আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ন
অনন্য আধুনিক কাব্যশৈলী ও কালজয়ী নাটকের রচয়িতা, বিশিষ্ট কবি ও নাট্যকার আদিম হাশমির প্রয়াণ দিবস পালিত হয়েছে। ২০০১ সালের ৫ নভেম্বর আমেরিকার শিকাগোতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং সেখানকারই একটি কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
আদিম হাশমির আসল নাম ছিল ফসিহ উদ্দিন। ১৯৪৬ সালের ১ আগস্ট অবিভক্ত ভারতের ডালহৌসি শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ভারত ভাগের পর তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে ফয়সালাবাদে। পরবর্তীতে ১৯৭০ সালে তিনি লাহোরে স্থানান্তরিত হন।
লাহোরে আসার পর থেকেই সাহিত্যের জগতে তাঁর পদচারণা আরও জোরদার হয়। সে সময় বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় তাঁর কবিতা নিয়মিত প্রকাশিত হতে থাকে, যা তাঁকে সাহিত্যিকদের পাশাপাশি পাঠকদের মধ্যেও ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। এর পাশাপাশি তিনি রেডিও ও টেলিভিশনের জন্য গান লেখাও শুরু করেন।
কবি আদিম হাশমি একাধারে যেমন কবি হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন, তেমনি নাট্যকার হিসেবেও ছিলেন অত্যন্ত সফল। পাকিস্তানের টেলিভিশনের জন্য তিনি একাধিক জনপ্রিয় নাটক রচনা করেছেন। তাঁর রচিত ‘আগোশ’ নাটকটি দেশজুড়ে দর্শকমহলে অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছিল। এছাড়া জনপ্রিয় কমেডি ড্রামা সিরিজ ‘গেস্ট হাউস’-এরও কয়েকটি পর্ব তাঁর লেখা।
সংগীত জগতে আদিম হাশমির লেখা একটি বিখ্যাত গজলের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রখ্যাত গায়িকা ও গজল শিল্পী গোলাম আলীর কণ্ঠে গানটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়, যার শুরুর পঙক্তি ছিল— “ফাসলে অয়সে ভি হোঙ্গে ইয়ে কভি সোচা না থা, সামনে বয়েঠা থা মেরে অউর ও মেরা না থা।” গোলাম আলী ছাড়াও আরও অনেক সংগীতশিল্পী এই গজলটি গেয়েছেন। দেশভাগের পর জন্ম নেওয়া তরুণ প্রজন্মের কাছে আদিম হাশমির কবি হিসেবে জনপ্রিয়তার অন্যতম মূল কারণ ছিল এই গজলটি।
আধুনিক উর্দু সাহিত্যের কাব্যজগতে আদিম হাশমিকে তাঁর স্বতন্ত্র ভাব ও আধুনিক শৈলীর জন্য গণ্য করা হয়। তাঁর জীবদ্দশায় একাধিক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে, যার মধ্যে ‘তারকাশ’, ‘মুকালমা’, ‘ফাসলে অয়সে ভি হোঙ্গে’, ‘মুঝে তুমসে মহব্বত হ্যায়’, ‘চেহরা তুমহারা ইয়াদ রেহতা হ্যায়’ এবং ‘কহো কতনি মহব্বত হ্যায়’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।