আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ন
যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় প্রাতঃরাশ বা ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল ‘রাইস ক্রিসপিস’ ও ‘কোকো পপস’-এর রেসিপিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কেলগস। এখন থেকে এগুলো তৈরিতে অক্ষত চালের দানার বদলে ভুট্টার আটা ও চালের আটা ব্যবহার করা হবে। সেই সঙ্গে নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে গমের গ্লুটেন। রেসিপির এই পরিবর্তনের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রেতা ও ভক্তদের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
কেলগসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে শস্য ও খাদ্যশস্যের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় তারা এই পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নতুন সংস্করণের স্বাদ, চেহারা ও গঠন সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, দুধে ভেজানোর পর পণ্যটির সেই ঐতিহাসিক ‘পপ’ বা মচমচে শব্দ আর শোনা যাচ্ছে না। এছাড়া অনেকেই নতুন এই স্বাদের তীব্র সমালোচনা করেছেন।
টিকটকে একজন অভিভাবক লিখেছেন, নতুন রেসিপির পর থেকে আগের সেই বিশেষ শব্দ বা অনুভূতি আর নেই এবং তাঁর সন্তান এটি খেতে অস্বীকার করছে। লরেন নামে অন্য এক ব্যবহারকারী জানান, তিনি বহু বছর ধরে প্রতিদিন এটি খেতেন, কিন্তু নতুন রেসিপির বাটি সামনে পেলেই পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ দুধে দেওয়ার পর সেই চেনা শব্দ আর পাওয়া যায় না। অনেকে আবার অভিযোগ করেছেন, নতুন এই স্বাদের গঠন একেবারে ভিন্ন ও অদ্ভুত।
প্রাতঃরাশের এই খাদ্যটিতে দুধ যোগ করলে যে ‘স্ন্যাপ, ক্র্যাকল অ্যান্ড পপ’ শব্দ তৈরি হতো, তা ১৯৫০-এর দশক থেকেই ব্র্যান্ডটির বিপণনের মূল ভিত্তি ছিল। তবে কেলগস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বিক্রি হওয়া রাইস ক্রিসপিসের রেসিপিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। যুক্তরাজ্যে চরম আবহাওয়া ফসলের ক্ষতি করায় এবং উপাদানের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
বিশ্বের বেশিরভাগ চাল এশিয়া থেকে আসে, যা সম্প্রতি এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে চরম খরা, বন্যা ও তৈরি হওয়া তাপদাহে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা অনুমান করছে, রেকর্ড ভাঙা এই এল নিনো পরিস্থিতি অন্তত ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। শস্যের এই ঘাটতির কারণেই মূলত কেলগস ভুট্টার আটার মতো বিকল্প উপাদানে যেতে বাধ্য হয়েছে।
কেলগস আরও নিশ্চিত করেছে যে রাইস ক্রিসপিস ও কোকো পপস ছাড়া অন্য কোনো সিরিয়ালের রেসিপিতে পরিবর্তন আনা হয়নি। এতে কৃত্রিম কোনো রং বা স্বাদ ব্যবহার করা হয়নি এবং এতে থাকা ভিটামিন ডি, আয়রন ও ফাইবারের মতো পুষ্টিগুণ আগের মতোই বহাল থাকবে। তবে এখন থেকে প্যাকেটে ‘গমের গ্লুটেন রয়েছে’ সম্পর্কিত একটি নতুন সতর্কবার্তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।