ফুটবল খেলার মাইকিংকে কেন্দ্র করে ভাঙ্গায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: টানা দুই দিনে ৮ গ্রামের তাণ্ডব, শতাধিক আহত
ভাঙ্গা উপজেলার মুনসুরাবাদ এলাকায় ফুটবল খেলার মাইকিংকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। টানা দুই দিন ধরে ৮ গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। এ ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত শতাধিক গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।
শনিবার (৪ মার্চ) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা সদর থেকে সেনাবাহিনী, ডিবি পুলিশ ও অতিরিক্ত এক প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ডিবি ও পুলিশ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। বর্তমানে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুই দিন আগে মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামে এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করতে গেলে পাশের খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কিছু যুবক তাকে লাঞ্ছিত করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রথম দফায় প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়।
এরই জের ধরে শনিবার সকালে মুনসুরাবাদ গ্রামের লোকজনের সঙ্গে খাপুরা, সিংগারডাক, মাঝিকান্দা, ছোট হামেরদী ও গুপিনাথপুরসহ মোট ৮ গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মুনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চললেও পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় প্রাথমিকভাবে থানা পুলিশ নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়।
ভাঙ্গা থানার তদন্ত ওসি আলামিন মিয়া জানান, শুক্রবার রাতের ঘটনার জের ধরে শনিবার সকালে পুনরায় কয়েকটি গ্রামের মানুষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
