
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে চরমোনাইপন্থী দল কর্তৃক সমর্থিত সংসদ সদস্য (এমপি) পদপ্রার্থী হাফেজ ক্বারী নেছার আহমাদ আন নাছিরী এক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে চরম সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
আজ (শনিবার) বিকেল ৫টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট দেন নেছার আহমাদ। সেখানে তিনি সদ্য মৃত একজন আলেমের সন্তানকে নিয়ে দুটি ছবি সংযুক্ত করে লেখেন—
❝গতকাল এই ছোট ছেলেটার বাবা মৃত্যুবরণ করেন। আমি এই এতিম ছেলেটার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছি আলহামদুলিল্লাহ❞”

এই পোস্টটি অল্প সময়েই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রশংসা করলেও, পোস্টের সত্যতা ও অভিপ্রায় নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা ও তীব্র সমালোচনা।
মরহুমের আপন ছোট ভাই হাফেজ মাওলানা আবু মুসআব বেলায়েতুল্লাহ তার নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ওই পোস্টটি শেয়ার করে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানান। তিনি লেখেন—
“এই লোক কাদের সাথে কথা বলে দায়িত্ব নিল? আমরাতো কিছুই জানিনা। আমরা থাকতে আমাদের ছেলেদের দায়িত্ব ওনাকে কে দিল?”
শুধু পরিবারের পক্ষ থেকেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুরু হয় নেছার আহমাদের বিরুদ্ধে একের পর এক কড়া মন্তব্য।
ফেসবুক ব্যবহারকারী মুখতার হোসাইন রহমানী মন্তব্য করেন—“বাটপারের ঘরের বাটপার।”
ইসহাক বিন বশির লেখেন—“ধান্ধাবাজি শালা।”
মো. রাকিব বিন সাঈদের মন্তব্য—“হুজুরের সন্তানদেরকে কি অসহায় মনে করেছে? বাটপার, ধান্ধাবাজ একটা।”
নিয়ামতুল্লাহ নামের আরেকজন মন্তব্য করেন—“বাটপারি করতে করতে এখন আসল জায়গায় এসে ধরা পড়ছে।”
এছাড়াও মরহুমের ছোট শ্যালক হাম্মাদুল হক সরাসরি বলেন—“ওনাকে (নেছার আহমাদ) কেউ দায়িত্ব দেয়নি। আমাদের কারো সাথেই ওনার কোনো কথা হয়নি।”

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে হাফেজ ক্বারী নেছার আহমাদ আন নাছিরী জানান—
“আমাদের মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আমি মিটিংয়ে ছিলাম, তাই বিষয়টা ভালো করে দেখতে পারিনি। এডমিন পোস্ট করে দিয়েছে। পরে বিষয়টি বুঝে পোস্টটি সাথে সাথে ডিলিট করে দেই।”
যে শিশুকে নিয়ে পোস্টটি করা হয়, তিনি হলেন সদ্য ইন্তেকাল করা বিশিষ্ট আলেম ও জামিয়া ইউনুসিয়ার শিক্ষক মুফতি আব্দুল্লাহ ক্বাসেমী (রহ.)-এর কনিষ্ঠ সন্তান রহমতুল্লাহ। বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুসিয়া মাদরাসায় ‘মিজান’ জামাতে অধ্যয়নরত।
