আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ন
ফ্রান্সে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক মানুষের দেহে ‘শামোনডা ভাইরাস’ (Shamonda virus) শনাক্ত করা হয়েছে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, আগে এই ভাইরাসটি কেবল পতঙ্গের মাধ্যমে গবাদিপশু যেমন গরুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ার জন্য পরিচিত ছিল। তবে এবার একজন মানুষের শরীরে এটি শনাক্ত হওয়ায় ইউরোপজুড়ে পশু থেকে মানুষে ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু হয়েছে।
ফরাসি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে লিওঁ শহরে গুরুতর অনাক্রম্যতা বা প্রতিরোধ ব্যবস্থার চিকিৎসারত অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যু হয়। রোগীর মৃত্যুর আগে শরীরে দেখা দেওয়া মারাত্মক মস্তিষ্কের জটিলতা এই ভাইরাসের কারণে হয়েছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষকরা।
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানুষের দেহে এর উপস্থিতি একটি নতুন ঘটনা হলেও ভাইরাসটি মূলত ছোট কামড়ানো পতঙ্গের মাধ্যমে গবাদিপশুতে ছড়ায়। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের কোনো ঝুঁকি নেই বলে সাময়িকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
শামোনডা ভাইরাসটি প্রথম ১৯৬৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে নাইজেরিয়ায় শনাক্ত হয়েছিল। এরপর থেকে আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের পশুপালে এটি মাঝেমধ্যে দেখা গেছে। তবে চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশে ভাইরাসটি পশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এটি মানুষের শরীরে স্থানান্তরিত হয়ে মহামারী বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে।
গবাদিপশুর ক্ষেত্রে এই ভাইরাসটি ‘শমালিনবার্গ’ (Schmallenberg) ভাইরাসের সমগোত্রীয়। এটি গরুর জ্বর, বিষণ্নতা, ডায়রিয়া, দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং জন্মগত শারীরিক ত্রুটি বা বিকলাঙ্গতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
একবিংশ শতাব্দীর এই প্রথম মানবিক সংক্রমণের বিষয়টি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছেন। তবে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো জোর দিয়ে বলেছে যে ভাইরাসটি প্রতিরোধে সাধারণ সতর্কতাগুলো এখনো কার্যকর এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
পরিস্থিতি তদারকি ও ভাইরাসের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে ইউরোপের স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো অঞ্চলটির গবাদিপশু এবং পতঙ্গগুলোর ওপর কড়া নজরদারি বজায় রাখবে বলে জানিয়েছে।
সূত্র: urdu news

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।