
ব্রাক্ষণবাড়িয়া : ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় রচনা করল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা, যেখানে গতকাল ফুলবাড়িয়া মাদ্রাসার পবিত্র প্রাঙ্গণে এক বিরল ও ঐতিহাসিক সংলাপের আয়োজন করা হয়। এদিন মুখোমুখি হন—একদিকে এনসিপি (ন্যাশনাল কনসাস পার্টি) এর উপজেলা নেতৃত্ব, অন্যদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের বিজয়নগর উপজেলার শীর্ষস্থানীয় আলেম ও নেতৃবৃন্দ। তবে এটি ছিল না কেবল পরিচিতি সভা; এটি ছিল এক গভীর রাজনৈতিক, সামাজিক ও আদর্শিক সংলাপ, যেখানে গর্জে উঠেছে ইনসাফের আকাঙ্ক্ষা, আলোচিত হয়েছে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধের কৌশল এবং প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এক নতুন যুগের সম্ভাব্য নীতিগত ঐক্যের ভিত্তি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির উপজেলা সভাপতি আমীন চৌধুরী—যিনি তার বক্তৃতায় বলেন,
“আজকের দুনিয়ায় রাষ্ট্রের ক্ষমতা যখন জনগণের বিপক্ষে ব্যবহার হয়, তখন প্রতিরোধ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং ঈমানের দাবি। আমরা ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে চাই—শুধু রাজনীতির ছায়ায় নয়, আলেম-ওলামা ও সচেতন সমাজকে নিয়ে।”
তার বক্তব্যে ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের দৃঢ় প্রত্যয়, এবং হেফাজতের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাধারণ জনগণের পক্ষে মাঠে নামার প্রতিজ্ঞা।
অপরদিকে হেফাজতে ইসলাম বিজয়নগর উপজেলার সভাপতি মাওলানা শফিকুল ইসলাম বলেন,
“আমরা কখনো দলীয় স্বার্থে একত্রিত হই না, আমরা ঐক্য চাই উম্মাহর কল্যাণে, ইনসাফ ও ইমানের আলো ছড়াতে। যদি ন্যায়ের পক্ষে কেউ দাঁড়ায়, সে আমাদের ভাই। বিজয়নগরে আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অবিচারের বিরুদ্ধে একত্র হব।”
তিনি আরও বলেন, রাজনীতি যদি মানুষকে বিভক্ত করে, তবে দ্বীনের আলো তা পুনরায় একতাবদ্ধ করতে পারে—আর এই ঐক্যই হলো ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য।
উপস্থিত ছিলেন: এনসিপির কেন্দ্রীয় ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ হেফাজতে ইসলাম বিজয়নগর শাখার সেক্রেটারি ও অন্যান্য আলেমসমাজ ফুলবাড়িয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণ
আলোচনার মূল বিষয় ছিল: নব্য ফ্যাসিবাদ ও রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন প্রতিরোধে কৌশল নির্ধারণ ইসলামি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে ঐক্য গড়ে তোলা যুব সমাজের আদর্শিক ভিত্তি গঠনে যৌথ কার্যক্রম গ্রামের সামাজিক অবক্ষয় রোধে দাওয়াতি ও সচেতনতামূলক অভিযান
এই সভা ছিল এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সূচনা। একদিকে রাজনৈতিক সক্রিয়তা, অন্যদিকে ধর্মীয় নেতৃত্ব—এই দুইয়ের সমন্বয়ে বিজয়নগরে যেমন আশা জাগছে, তেমনি রাষ্ট্র ও সমাজে ইনসাফের এক নতুন অধ্যায় শুরুর সুর বাজছে।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ একমত হন:
“দলের পরিচয় নয়, জনগণের অধিকারই হবে আমাদের মূল পরিচয়। আল্লাহর বিধান, মানুষের কল্যাণ—এই দুই ভিত্তির ওপর আমরা একত্র হব।”
