বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও স্লোগানের অভিযোগ: আবরার ফাইয়াজ ও নাসীরুদ্দীনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

লেখক: Sanjida
প্রকাশ: ১ মাস আগে
বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও স্লোগানের অভিযোগ: আবরার ফাইয়াজ ও নাসীরুদ্দীনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপস্থিতি এবং রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার রাতে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন শহীদ আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয় পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও ব্যাখ্যা উঠে এসেছে যা এখন টক অফ দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

আবরার ফাহাদের ভাই আবরার ফাইয়াজ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান যে, বুয়েটের বর্তমান ছাত্র-রাজনীতিমুক্ত পরিবেশটি অর্জিত হয়েছে দুটি অমূল্য জীবনের বিনিময়ে এবং অসংখ্য শিক্ষার্থীর কঠোর ত্যাগের ফলে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বুয়েট ক্যাম্পাস যে রাজনৈতিক কর্মসূচির জায়গা নয়—তা জানতেন কি না। ফাইয়াজের মতে, নামাজ পড়তে আসাতে কোনো বাধা নেই, কিন্তু নামাজের পর স্লোগান বা মিছিল দেওয়ার জন্য বুয়েট ক্যাম্পাসকে বেছে নেওয়া অনভিপ্রেত। এই ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদে ক্যাম্পাসের স্থিতিশীল পরিবেশের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শিক্ষার্থীদের এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি জানান, বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষার্থীর আমন্ত্রণে তিনি কেবল তারাবির নামাজ আদায় করতে সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর অরাজনৈতিক ক্যাম্পাসের বিধি-নিষেধ সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হলে তিনি তা তাৎক্ষণিকভাবে মেনে নেন এবং কোনো ধরনের বক্তব্য দেওয়া বা মিডিয়া ব্রিফিং থেকে বিরত থাকেন। তার ভাষ্যমতে, তিনি সেখানে শুধু শহীদ আবরার ফাহাদ এবং বিডিআর বিদ্রোহে শহীদ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেছেন।

নাসীরুদ্দীন আরও স্পষ্ট করেন যে, বুয়েট ক্যাম্পাসের ভেতরে কোনো স্লোগান দেওয়া হয়নি; বরং ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে পলাশীতে গিয়ে তিনি প্রেস ব্রিফিং করেন এবং সেখানে উপস্থিত কেউ ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিলে তিনি নিজেই তাদের থামিয়ে দেন। বুয়েটের অরাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতি নিজের সর্বোচ্চ সম্মানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যদি তার এই কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে তিনি শিক্ষার্থীদের দেওয়া যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত। এই ঘটনার পর বুয়েট শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও অরাজনৈতিক চরিত্র বজায় রাখা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।

  • বুয়েট ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও স্লোগানের অভিযোগ: আবরার ফাইয়াজ ও নাসীরুদ্দীনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য