ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশনের ইমাম-খতীব সম্মেলন অনুষ্ঠিত

লেখক: দেলোয়ার হোসাইন মাহদী
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশনের ইমাম-খতীব সম্মেলন অনুষ্ঠিত

 

সংবাদদাতা : দেলোয়ার হোসাইন মাহদী (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ইমাম ও খতীবদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশন আয়োজিত ইমাম-খতীব সম্মেলন।

 

গতকাল ২২ অক্টোবর (বুধবার) দুপুর ২টায় শহরের টেংকের পাড় পৌর কমিউনিটি সেন্টারে মাওলানা সৈয়দ আসাদুল করীম ও মুফতি সালাহউদ্দিন ইয়াকুবীর যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলন শুরু হয়।

 

সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আতিকুল্লাহ বিন রফিক।

প্রধান অতিথি ছিলেন মুফতি শামীম মজুমদার, প্রধান মেহমান মুফতি মুবারকুল্লাহ, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি শরীফুল্লাহ তারেকী, মুফতি রফিকুল ইসলাম সরদার,

এবং বিশেষ মেহমান মাওলানা আবু তাহের জিহাদী ও শায়খ জয়নাল আবেদীন জালালী। এছাড়াও ঢাকা ও স্থানীয় বিভিন্ন উপজেলা থেকে কয়েক শতাধিক আলেম-উলামা সম্মেলনে অংশ নেন।

 

ইমামদের প্রতি নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, আমাদের নবিজী ইমাম ছিলেন, আর ইমামতি করা হলো নবিজীর দায়িত্বেরই অংশ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য—আজকের সমাজে ইমামদের সম্মান দেওয়া হয় না, বরং বিভিন্ন স্থানে তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চলছে।

 

বক্তারা আরও বলেন, এই নির্যাতন প্রতিরোধে একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন ছিল। আলহামদুলিল্লাহ, শানে সাহাবার মাধ্যমে সেই খেদমত আজ বাস্তব রূপ নিচ্ছে। আমরা এই সংগঠনের সঙ্গে থাকতে পেরে গর্বিত।

 

তারা উল্লেখ করেন, আজ শানে সাহাবা নাম শুনলেই অনেকেই সতর্ক হয়ে যায়। কারণ এখন সমাজ জানে—ইমামদের ওপর অন্যায় হলে শানে সাহাবা মাঠে নামে।

 

ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর অবস্থান জানান দিয়ে মাওলানা আবু তাহের জিহাদী বলেন, ইমাম সমাজের নৈতিক নেতা। যিনি আমাদের সন্তানদের ইসলামি শিক্ষা দেন, অথচ আজ সমাজে তাঁকে অবহেলা করা হয়—এটা মেনে নেওয়া যায় না।

 

সংগঠনের মহাসচিব মুফতি শরিফুল্লাহ তারেকী বলেন, অনেক মসজিদে অযোগ্য ও ঘুষখোর ব্যক্তিরা কমিটি গঠন করে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের চাকরের মতো ব্যবহার করছে। এই অন্যায় আর সহ্য করা হবে না—শানে সাহাবা এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে।

 

মুফতি রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। যারা তাদের ওপর নির্যাতন চালায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

ইমামদের সরকারি স্বীকৃতি ও সম্মানীর দাবি জানিয়ে মুফতি মুবারকুল্লাহ বলেন, শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশন একটি সরকার নিবন্ধিত সংগঠন। দেশের প্রতিটি জেলায় আমাদের কার্যক্রম চলছে। ইমাম-মুয়াজ্জিনদেরও পরিবার রয়েছে—তাদের জীবনযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সরকারিভাবে সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

 

অত্র সংগঠনের চেয়ারম্যান মুফতি শামীম মজুমদার বলেন,

যারা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ওপর নির্যাতন করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন ও সরকারকে অনুরোধ করছি—ইমামদের সম্মান রক্ষায় প্রশাসনিক উদ্যোগ নিন। ইমামই সমাজের নেতা, তাকে অবহেলা করা মানে সমাজকেই অবমাননা করা।

 

সরাইলের শাহবাজপুরের ময়না হত্যায় গ্রেপ্তারকৃত নিরীহ ইমাম – মুয়াজ্জিনের মুক্তির ব্যাপারে ২০ কার্যদিবসের আল্টিমেটাম জানিয়ে তিনি বলেন,

আগামী ২০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের মুক্তি না দিলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের ইমাম-খতীব, মুয়াজ্জিন ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি ঘোষণা করবে শানে সাহাবা জাতীয় খতীব ফাউন্ডেশন।