ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলীতে গ্র্যান্ড তাজ হোটেল আবাসিকের একটি কক্ষ থেকে মেরাজ নামে এক যুবককে হাত-পা বাঁধা ও মুখে কস্টেপ লাগানো অবস্থায় উদ্ধারের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার কাছে থাকা ব্যবসায়িক এক লাখ ৫০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করেছে পরিবার।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মেরাজের মা বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযুক্তরা হলেন—হোটেল মালিক পৈরতলা এলাকার সুমন, সদর উপজেলার সুহিলপুরের ফয়সাল, হেলাল ও কাউতলী এলাকার বাবু।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে ফলের দোকানের মালামাল কেনার টাকা নিয়ে বের হন মেরাজ। পরে কাজীপাড়া ঈদগাহ মাঠ এলাকা থেকে তাকে কৌশলে গ্র্যান্ড তাজ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই দুই ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনজন মিলে তাকে মারধর ও নির্যাতনের পর হাত-পা বেঁধে এবং মুখে কস্টেপ লাগিয়ে ৫০৬ নম্বর কক্ষে রেখে চলে যান।
পরিবারের দাবি, পরে হোটেল মালিক সুমন ওই কক্ষে গিয়ে মেরাজকে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান এবং নিজের মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে আবার হোটেলে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে মেরাজ সেখান থেকে পালিয়ে কাজীপাড়া এলাকায় গিয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার রাতে তাকে ফের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, মেরাজকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধারের ভিডিও এবং হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। তবে এসব ফুটেজ চাইতে গেলে হোটেল মালিক সুমন নানা টালবাহানা করেন। এমনকি রিসেপশনের পাশের ৫০৬ নম্বর কক্ষের সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। হোটেলের এক কর্মচারীও মেরাজকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে তাদের দাবি।
ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য অর্থের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মেরাজের পরিবার। তাদের দাবি, ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে কথিত ভিডিও, সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য দ্রুত সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
এদিকে, গ্র্যান্ড তাজ হোটেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর হোটেল মালিক সুমনও থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দুই পক্ষ থেকেই অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খাইরুল আলম বলেন, “এ ঘটনায় দুই পক্ষ থেকেই অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।”

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।