ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন ভাদুঘর শাহী মসজিদ

‎মুঘল আমলের স্থাপত্য নিদর্শন, সামনে জেলার অন্যতম বৃহৎ ঈদগাহ
14101
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন ভাদুঘর শাহী মসজিদ। মুঘল আমলের স্মৃতি বহনকারী এই ঐতিহাসিক মসজিদটি আজও ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পাশাপাশি জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

‎প্রাচীন সমতট অঞ্চলের অন্তর্গত বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত এ মসজিদের সামনে রয়েছে বিশাল ঈদগাহ ময়দান। সেখানে প্রতিবছর ঈদের জামাতে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। স্থানীয়ভাবে এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদের জামাত হিসেবে পরিচিত।

‎মুঘল আমলে নির্মাণ
‎প্রাপ্ত ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব আলমগীরের শাসনামলে ১০৮৪ হিজরি, আনুমানিক ১৬৬৩ খ্রিষ্টাব্দে ভাদুঘর শাহী মসজিদ নির্মিত হয়। তৎকালীন সরাইল পরগণার জমিদার নূর এলাহী ইবনে মজলিশ শাহবাজের তত্ত্বাবধানে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল বলে ঐতিহাসিক সূত্রে উল্লেখ রয়েছে।

‎অর্থাৎ বর্তমান সময় থেকে প্রায় সাড়ে তিন শতাব্দী আগে নির্মিত এই মসজিদটি এ অঞ্চলের মুসলিম স্থাপত্য ও ধর্মীয় ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

‎অনন্য নির্মাণশৈলী
‎ভাদুঘর শাহী মসজিদের স্থাপত্যেও রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৪ ফুট এবং প্রস্থ ২৪ ফুট। এর দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি।

‎মসজিদের সঙ্গে থাকা মিনারটির ভিত্তি প্রায় ১২ ফুট বাই ৯ ফুট এবং উচ্চতা প্রায় ৭৫ ফুট বলে ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
‎মসজিদের অভ্যন্তরের কারুকার্যও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঐতিহাসিক বিবরণে কলসের মধ্য থেকে হাত প্রসারিত হওয়ার মতো একটি ব্যতিক্রমী অলংকরণ থাকার কথা বলা হয়েছে, যা স্থাপনাটির নান্দনিক বৈশিষ্ট্যকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

‎কালো পাথরের শিলালিপিতে ইতিহাস
‎মসজিদটির ইতিহাস অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে রয়েছে কালো পাথরে খোদাই করা ফারসি ভাষার শিলালিপি। এই শিলালিপির মাধ্যমে মসজিদটির নির্মাণকাল ও ঐতিহাসিক পটভূমি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় বলে উল্লেখ রয়েছে।

‎শত শত বছর ধরে নানা পরিবর্তনের মধ্যেও মসজিদটি তার ঐতিহাসিক পরিচয় ধরে রেখেছে। ফলে এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতীত ইতিহাস, মুঘল আমলের স্থাপত্য এবং এ অঞ্চলের ধর্মীয়-সামাজিক ঐতিহ্যেরও একটি দৃশ্যমান দলিল।

‎ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবি
‎ইতিহাস-ঐতিহ্যের এমন নিদর্শন সময়ের সঙ্গে ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া স্বাভাবিক। তাই ভাদুঘর শাহী মসজিদের মূল স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে সংরক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং এর ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয় ইতিহাস-সচেতন মানুষ।

‎বিশেষ করে মসজিদটির নির্মাণকাল, শিলালিপি, স্থাপত্যশৈলী ও সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক দলিল যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন ও গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
‎প্রায় সাড়ে তিনশ বছরের ইতিহাস বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে থাকা ভাদুঘর শাহী মসজিদ তাই কেবল ইট-পাথরের একটি পুরোনো স্থাপনা নয়—এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতীতের সঙ্গে বর্তমানের এক জীবন্ত সেতুবন্ধন।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ