বাংলা কবিতা, সাহিত্য-সমালোচনা ও ছন্দচর্চায় উজ্জ্বল এক প্রতিভা বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অবদান অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই জনপদের মাটি থেকে জন্ম নিয়েছেন বহু কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবী। তাঁদেরই একজন কবি আবদুল কাদির—যিনি কবিতা রচনার পাশাপাশি সাহিত্য-সমালোচনা ও ছান্দসিক হিসেবে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন।
কবি আবদুল কাদির (১ জুন ১৯০৬—১৯ ডিসেম্বর ১৯৮৪) জন্মগ্রহণ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আড়াইসিধা গ্রামে। শৈশবেই তিনি মাতৃহারা হন। প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর মেধা, অধ্যবসায় ও জ্ঞানপিপাসা তাঁকে এগিয়ে নেয় বাংলা সাহিত্যের বৃহত্তর অঙ্গনে।
শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন অসাধারণ কৃতিত্বের অধিকারী।।
১৯২৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঁচটি বিষয়ে লেটারসহ ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর ১৯২৫ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আইএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন এবং বি.এ. পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।
শিক্ষাজীবনের এই উজ্জ্বল সাফল্য তাঁর সাহিত্যিক মনন ও সৃজনশীলতাকে আরও সমৃদ্ধ করে। কবিতার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের ছন্দ, রীতি ও সমালোচনার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান তাঁকে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। তাঁর সাহিত্যকর্মে যেমন ছিল সৌন্দর্যবোধ, তেমনি ছিল গভীর মনন ও শিল্পচেতনা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের একটি ছোট্ট গ্রাম আড়াইসিধা থেকে উঠে এসে আবদুল কাদির বাংলা সাহিত্যে যে স্বাক্ষর রেখে গেছেন, তা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের। তাঁর জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রতিভা কোনো ভৌগোলিক সীমারেখায় আবদ্ধ নয়; মেধা, সাধনা ও অধ্যবসায় থাকলে প্রত্যন্ত জনপদ থেকেও একজন মানুষ জাতীয় সাহিত্যের অঙ্গনে নিজের স্থায়ী আসন করে নিতে পারেন।
১৯৮৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তবে সাহিত্যিকের মৃত্যু হয় না—তাঁর সৃষ্টি, চিন্তা ও কর্মের মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।
কবি আবদুল কাদির তাই শুধু একজন কবির নাম নয়; তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাহিত্য-ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। তাঁর জন্মভূমি আড়াইসিধা যেমন তাঁকে ধারণ করে গর্বিত, তেমনি তাঁর সাহিত্যকীর্তি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাসে তাঁকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।