ভাগে কোরবানি দেওয়ার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ১ মাস আগে
ভাগে কোরবানি দেওয়ার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। আর এই ঈদের প্রধান ইবাদতই হলো কোরবানি। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব। তবে অনেকেই এককভাবে পশু কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় শরিকে বা ভাগে কোরবানি করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে ইসলামে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান ও সতর্কতা।

ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দিয়ে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তি কোরবানি দিতে পারবেন। এসব পশুতে একাধিক ব্যক্তি শরিক হওয়া জায়েজ নয়। তবে গরু, মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারেন। সাতজনের বেশি হলে কারও কোরবানি সহিহ হবে না।

হাদিসে এসেছে, হজরত জাবের (রা.) বলেন, “আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে হজ করেছি এবং সাতজন মিলে একটি উট ও একটি গরু কোরবানি করেছি।” (সহিহ মুসলিম)

তবে সাতজনের কম সংখ্যক মানুষও গরু, মহিষ বা উটে শরিক হতে পারবেন। অর্থাৎ দুই, তিন, চার, পাঁচ কিংবা ছয়জন মিলে কোরবানি করা জায়েজ।

ইসলামে শুধু শরিকের সংখ্যা নয়, শরিক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ, অংশীদারদের মধ্যে কেউ যদি শুধুমাত্র গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে কোরবানিতে অংশ নেয় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত না থাকে, তাহলে তার কোরবানি যেমন সহিহ হবে না, তেমনি অন্য শরিকদের কোরবানিও শুদ্ধ হবে না। তাই কোরবানির অংশীদার নির্বাচনে সচেতন হওয়া জরুরি।

অনেকের মধ্যে ধারণা রয়েছে, যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয় তারা কোরবানি করতে পারবেন না। ইসলামে এমন কোনো বাধা নেই। বরং তারা নফল ইবাদত হিসেবে কোরবানি করলে সওয়াব পাবেন।

এ ছাড়া সন্তানের পক্ষ থেকে বাবার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। তবে বাবা নিজের অর্থ দিয়ে নাবালক সন্তানের নামে কোরবানি করলে তা নফল কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে। মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও কোরবানি করা জায়েজ রয়েছে।

  • ভাগে কোরবানি দেওয়ার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি