
মহররম ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রথম মাস এবং এটি চারটি ‘হারাম’ বা সম্মানিত মাসের একটি, যেগুলোতে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মহররম শব্দের অর্থই হলো ‘নিষিদ্ধ’ বা ‘পবিত্র’। এ মাসে ইবাদত-বন্দেগি, রোজা ও আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব অপরিসীম।
আশুরার তাৎপর্য (১০ মহররম) : মহররম মাসের সবচেয়ে তাৎপর্যময় দিন হলো ১০ মহররম, যাকে আশুরা বলা হয়। এই দিনে বহু গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে –
. হজরত মুসা (আ.) ও তার অনুসারীরা ফেরাউন থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।
. হজরত নূহ (আ.) এর কিশতী ভূমিতে নোঙর করে।
. হজরত আদম (আ.)-এর তওবা কবুল হয়।
. হজরত ইব্রাহিম (আ.) আগুন থেকে মুক্তি পান।
কারবালার হৃদয়বিদারক ঘটনা : ১০ মহররম, ৬১ হিজরিতে, ইমাম হুসাইন (রা.)—হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র—ইরাকের কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শাহাদাতবরণ করেন। তিনি ন্যায়, ইনসাফ ও সত্যের জন্য নিজের ও পরিবার-পরিজনের জীবন উৎসর্গ করেন। এই ঘটনা মুসলিম উম্মাহকে ত্যাগ ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগায়।
রোজার ফজিলত : হাদীসে এসেছে, রাসুল (সা.) আশুরার রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদেরও তা রাখতে উৎসাহিত করতেন। এক হাদীসে বলা হয়েছে: – : আশুরার রোজা রাখলে পূর্ববর্তী বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যায় : ( সহীহ মুসলিম )
যদিও পরবর্তীতে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার পর আশুরার রোজা নফল রয়ে যায়, তবে এর ফজিলত এখনো বিদ্যমান। রাসুল (সা.) ৯ ও ১০ মহররম একসঙ্গে রোজা রাখতে উৎসাহিত করেছেন, যাতে ইহুদিদের অনুকরণ না হয়।
আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের শিক্ষা : মহররমের শিক্ষা হলো ধৈর্য, আত্মসংযম, ত্যাগ ও সত্যের পক্ষে অবিচল থাকা। এটি একদিকে যেমন ইবাদতের মাস, অন্যদিকে ইতিহাসের এক গৌরবময় ও বেদনাবিধুর স্মৃতির ধারক।
মহররম মুসলমানদের কাছে একটি বিশেষভাবে পবিত্র মাস। এই মাস আমাদের আত্মশুদ্ধি, সত্যের পক্ষে অবস্থান ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের শিক্ষা দেয়। তাই এই মাসে ইবাদত, রোজা ও আত্মবিশ্লেষণের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টাই হওয়া উচিত প্রতিটি মুসলমানের লক্ষ্য।
