আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের বাকি দুই বছর কতটা সহজ বা কঠিন হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। এই ভোটে মার্কিন নাগরিকরা দেশটির আইনসভা কংগ্রেসের উভয় কক্ষের সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোট দেবেন।
মার্কিন কংগ্রেস দুটি কক্ষে বিভক্ত— হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস (নিম্নকক্ষ) এবং সিনেট (উচ্চকক্ষ)। প্রতি দুই বছর পর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত হয় বলে একে মধ্যবর্তী বা মিডটার্ম নির্বাচন বলা হয়। কংগ্রেসের প্রধান কাজ হলো দেশটির জন্য ফেডারেল আইন তৈরি ও পাস করা। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি নাকি বিরোধী ডেমোক্র্যাট পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
নির্বাচনে নিম্নকক্ষ অর্থাৎ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সব ৪৩৫টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। নিম্নকক্ষের সদস্যরা দুই বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হন এবং এখানেই সাধারণত নতুন আইনের প্রস্তাব উপস্থাপন ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, ১০০ আসনবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ সিনেটের ৩৫টি আসনে এবার নির্বাচন হবে। সিনেটররা ছয় বছরের মেয়াদে নির্বাচিত হন এবং তারা হাউস থেকে পাস হওয়া আইন অনুমোদন বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখেন। একই দিনে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নরসহ স্থানীয় পদের প্রতিনিধিও নির্বাচিত হবেন। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও মিশিগানের গভর্নর নির্বাচন সবার নজর কাড়ছে।
অর্থনীতি এবার ভোটারদের জন্য একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রয়েছে মূল্যস্ফীতি। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে সাধারণ আমেরিকানদের ওপর এই বাড়তি খরচের চাপ পড়েছে।
অভিবাসন ইস্যুও এই নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলছে। রিপাবলিকানদের দাবি, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ট্রাম্প সীমান্ত কঠোর করেছেন এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন। অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই দলের শীর্ষ রাজনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে, যদিও ট্রাম্প প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
বর্তমানে হাউস ও সিনেট উভয় কক্ষেই সামান্য ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে রিপাবলিকানদের। হাউসে তাদের রয়েছে ২১৮টি আসন এবং সিনেটে রয়েছে ৫৩টি আসন। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে ডেমোক্র্যাটদের কমপক্ষে ৫১টি আসনে জয় পেতে হবে। যদি ডেমোক্র্যাটরা যেকোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পায়, তবে ট্রাম্পের দেশীয় নীতি ও আইন পাসের চেষ্টা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের ক্ষমতাও পাবে বিরোধীরা।
ঐতিহাসিকভাবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল আসন হারিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক জরিপ সাইট সিলভার বুলেটিন অনুযায়ী, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হার কমে ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে, আর ৬১ শতাংশ মানুষ তার কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প নিজে ব্যালটে না থাকলেও তিনি তার সমর্থকদের এই ভোটকে তার কাজের সমর্থন হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।