ফিচার ডেস্ক: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন
প্রতি এক দশকে বিবিসির ভবিষ্যৎ ও ধারাবাহিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ব্রিটিশ সরকারের সাথে এক জটিল ও বহুমুখী দরকষাকষিতে বসতে হয়। রিডিংয়ের একটি শহরের সংরক্ষিত কক্ষে একটি নীল বাক্সে সংরক্ষিত রয়েছে ভেলামের তৈরি মূল সনদ, যা বিবিসির মূল ভিত্তি। ১৯২০-এর দশকে যখন বিবিসির জন্ম হয়, তখন রেডিও প্রযুক্তিকে অনিশ্চিত মনে করায় সরকার এটিকে কেবল ১০ বছরের নিশ্চয়তা দিয়েছিল। সেই থেকে নির্দিষ্ট সময় পর পর বিবিসিকে নিজেদের নতুন করে গড়ে তুলতে হচ্ছে।
বর্তমান চার্টারের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। নতুন চার্টারের বিষয়বস্তু নির্ধারণ, বিতর্ক এবং পরিবর্তনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এটি মূলত সরকার ও বিবিসির মধ্যে দুই থেকে তিন বছরের একটি গভীর দরকষাকষির প্রক্রিয়া। যদি চার্টার নবায়ন করা না হয়, তবে বিবিসির আইনি সত্তা বিলুপ্ত হবে এবং সংস্থাটি আর সম্প্রচার, প্রকাশনা বা কর্মী নিয়োগ করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে এর সমস্ত সম্পদ রাষ্ট্রের অধীনে চলে যাবে।
গত চার্টার নবায়নের সময় ১৬টি ফোকাস গ্রুপ, ৯টি ইন্ডাস্ট্রি রাউন্ডটেবিল, দুটি স্বাধীন প্রতিবেদন এবং ৩০০টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও ক্রীড়া বিষয়ক মন্ত্রণালয় (ডিসিসিএমএস) প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার জনমত পেয়েছিল, যা পর্যালোচনা করতে নতুন একটি ভবন ভাড়া নিতে হয়েছিল। চার্টার নবায়ন কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং আগামী এক দশকে ব্রিটিশ গণমাধ্যমের রূপ কেমন হবে এবং বিবিসি কীভাবে পরিবর্তন আনবে, তা পূর্বাভাসের চেষ্টা।
প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং দর্শক ও শ্রোতাদের অভ্যাসের পরিবর্তনের কারণে বিবিসি এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বছর বছর বিবিসির পরিষেবা ব্যবহারকারী এবং এর জন্য ফি প্রদানকারীর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে শত শত মিলিয়ন পাউন্ডের কাটছাঁট করা হচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে লাইসেন্স ফি থেকে আয় প্রায় ১.৩ বিলিয়ন পাউন্ড কমেছে। নতুন ডিরেক্টর জেনারেল ম্যাট ব্রিটিন বিবিসির বর্তমান অর্থায়ন মডেলকে ‘অকার্যকর’ বলে বর্ণনা করেছেন।
২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বরে সংস্কৃতি সচিব লিজো নন্দী একটি ৩৮,০০০ শব্দের গ্রিন পেপার প্রকাশ করে বিবিসির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন এবং সাধারণ মানুষের মতামত আহ্বান করেন। সেখানে বিবিসিকে বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলার পাশাপাশি লন্ডনের বাইরে কাজ ছড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় ছিল এর অর্থায়ন। গ্রিন পেপারে বিজ্ঞাপন, সাবস্ক্রিপশন বা পরিবর্তিত লাইসেন্স ফির প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই গ্রিন পেপারের উত্তর ও মতামত সংগ্রহ শেষ হলে প্রায় ১২০,০০০টি প্রতিক্রিয়া জমা পড়ে, যা এখন পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। সংস্কৃতি, গণমাধ্যম ও ক্রীড়া বিষয়ক সিলেক্ট কমিটিতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিকরা তাদের মতামত তুলে ধরেছেন। তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করতে ইউটিউবভিত্তিক পরামর্শের পাশাপাশি বৈশ্বিক আইপ্লেয়ার বা নাগরিক প্যানেল তৈরির প্রস্তাবও উঠে এসেছে। বিবিসির জন্য এই চার্টার নবায়ন কেবল পুনর্গঠন নয়, বরং পরিবর্তিত প্রযুক্তির যুগে টিকে থাকার এক অনন্য সুযোগ।
অথেন্টিক সোর্স: The Guardian – The Long Read মূল প্রতিবেদনের লিংক সংরক্ষিত। তথ্যটি AI দিয়ে সম্পাদিত/অনূদিত; মূল সূত্র যাচাই করতে উপরের লিংক ব্যবহার করুন।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।