চাঞ্চল্যকর গুলিবিনিময়ের ঘটনায় ১২ পুলিশ সদস্য আহত; বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার। চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানাধীন কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়া এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর ও দুঃসাহসিক অভিযান পরিচালনা করেছে রাউজান থানা পুলিশ।
ভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে পুলিশ সদস্যরাও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে সাহসিকতা এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। এ সময় ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল হতে ১ জন গুলিবিদ্ধ সন্ত্রাসী গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তার হেফাজত ও ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
মোঃ জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস-এর নেতৃত্বে তাদের সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও চাঁদা আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ তারা জনৈক আবু বক্কর চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে। বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়ার পর চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম রাউজান থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
এর ধারাবাহিকতায় ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ রাত ২২:৪০ ঘটিকার সময় রাউজান থানাধীন ৮নং কদলপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ায় মোঃ জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমের বসতঘরের সামনে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বসতঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২), মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২), দিলদার হোসেন (৩৭), মোঃ রুবেল (২৭), মোঃ মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) এবং মোঃ বাঁচা (৪৫) সহ সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।

আকস্মিক ও সশস্ত্র হামলার মুখে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে আত্মরক্ষার্থে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মোঃ খোরশেদ আলম, এসআই মোঃ বায়েজিদ মৃধা, এসআই মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মোঃ জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস, এএসআই মোঃ রবিউল হোসেনসহ মোট ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।
অভিযান চলাকালীন দিলদার হোসেন (৩৭) নামে একজন সন্ত্রাসীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। এ সময় অপর সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তার হেফাজত হতে এবং তার দেখানো মতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত আলামত সমূহ:
১। ০১টি ডিবিবিএল (দোনলা বন্দুক) ২। ০১টি এসবিবিএল (একনলা কাটা বন্দুক) ৩। ১১৯ রাউন্ড চায়না রাইফেলের গুলি ৪। ০৬ রাউন্ড সীসা কার্তুজ ৫। ০৪টি রামদা ৬। ০২টি কটি ও ৭। ০২টি গুলি রাখার প্রসেস।
প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি ও পলাতক সহযোগীরা সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রধারী অপরাধী হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিঃ গভীর রাতে কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনাতেও ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অস্ত্র আইনে দুটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছিল।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।