
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক, সমাজ ও রাষ্ট্র চিন্তকদের মতামত তুলে ধরতে “রাষ্ট্র ভাবনায় নবপ্রজন্ম”শিরোনামে কবি ও সাংবাদিক লিটন হোসাইন জিহাদের সাক্ষাৎকার গ্রহন করেছেন পথিকটিভির কান্ট্রি এডিটর দেলোয়ার হোসাইন মাহদী । লিটন হোসাইন জিহাদ গণ অধিকার পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২নং (সরাইল – আশুগঞ্জ) আসনের এমপি পদপ্রার্থী
দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : রাষ্ট্র নিয়ে আপনার ভাবনা কেমন ?
লিটন হোসাইন জিহাদ: আমার চোখে রাষ্ট্র কোনো নির্জীব কাঠামো নয়—রাষ্ট্র একটি জীবন্ত চেতনার নাম। এখানে প্রতিটি মানুষের সম্মান, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হওয়া জরুরি। রাষ্ট্র কেবল শাসনের নয়, সেবার এক মহান প্রতিষ্ঠান।
আমি এমন একটি রাষ্ট্র কল্পনা করি, যেখানে— কৃষক গর্বিত, শ্রমিক নিরাপদ, শিক্ষক মর্যাদাবান, তরুণ কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়, নারী মাথা উঁচু করে হাঁটে।
একটা রাষ্ট্র তখনই সফল হয়, যখন তা সবচেয়ে দুর্বল মানুষের মুখেও হাসি ফোটাতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রের ভিত্তি হওয়া উচিত ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা এবং গণতন্ত্র। আমার স্বপ্ন এমন এক রাষ্ট্র, যেখানে নাগরিকরা ভয় নয়, ভরসা পায়—রাষ্ট্র হয় জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য, একটি মানবিক রাষ্ট্র।
দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রের কোন কোন দিকগুলো নিয়ে কাজ করতে চান ?
লিটন হোসাইন জিহাদ : আমি জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে মনোযোগ দেব। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবো— যথা :
১. শিক্ষা সংস্কার: মুখস্থ নির্ভরতা নয়, চিন্তাশীল, প্রযুক্তিভিত্তিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করবো।
২. কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি: কৃষকদের ন্যায্য দাম, আধুনিকায়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করবো।
৩. দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন: জিরো টলারেন্স নীতিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো।
৪. কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন: তরুণদের জন্য কর্মক্ষেত্র, ফ্রিল্যান্সিং ও স্টার্টআপে উৎসাহ।
৫. সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা: চিকিৎসাকে বিলাসিতা নয়, অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করবো।
৬. পরিবেশ ও নদী রক্ষা: তিতাসসহ সব নদী দখলমুক্ত ও সবুজায়নের উদ্যোগ।
৭. প্রযুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা: স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সাইবার অপরাধ দমন ও প্রযুক্তির বিস্তার।
৮. বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার: বিলম্ব নয়, স্বচ্ছ ও মানবিক বিচার নিশ্চিত করবো।
মোটকথা, একটি মানবিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠনই আমার অঙ্গীকার।
দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতি আপনার চোখে কেমন ?
লিটন হোসাইন জিহাদ : পিআর পদ্ধতি একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা। এটি বিশেষ করে ছোট দল বা স্বাধীন প্রার্থীদের মতামতের প্রতিফলনে সহায়ক। আমাদের দেশে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ব্যবস্থায় অনেক সময় জনমতের বৈচিত্র্য প্রতিফলিত হয় না।
পিআর পদ্ধতিতে ভোটের অনুপাতে আসন বরাদ্দ হয়—যা তুলনামূলকভাবে ন্যায়সঙ্গত ও গণতান্ত্রিক। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য দরকার:– নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা,
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক ঐকমত্য।
দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : পিআর পদ্ধতি কি আমাদের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে সক্ষম ?
লিটন হোসাইন জিহাদ : বর্তমানে ভোট ও আসনের অনুপাত অনেক ক্ষেত্রেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে প্রকৃত জনরায় প্রতিফলিত হয় না। পিআর পদ্ধতি এই অসমতা দূর করতে পারে। এটি রাজনৈতিক বৈচিত্র্য ও সংখ্যালঘুদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে সক্ষম।
তবে এটিও সত্য—এই পদ্ধতিতে ব্যক্তির চেয়ে দল বেশি ক্ষমতাবান হয়। স্থানীয় পর্যায়ের যোগাযোগ দুর্বল হতে পারে। তাই বলবো, পিআর পদ্ধতি এককভাবে সব সমস্যার সমাধান নয়, তবে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার একটি সম্ভাবনাময় পথ।
দেলোয়ার হোসাইন মাহদী : তারুণ্যের হাতে জনগণ ক্ষমতা দিতে কতটা প্রস্তুত বলে আপনি মনে করেন?
লিটন হোসাইন জিহাদ : এদেশের জনগণ আজ অনেক বেশি প্রস্তুত তারুণ্যের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে। কারণ, তারা পুরনো রাজনীতির ক্লান্তি থেকে বেরিয়ে পরিবর্তন চায়। তরুণরা প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ, উদ্ভাবনী এবং দায়বদ্ধ—যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।
বর্তমানে আমরা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও তারুণ্যের জাগরণ দেখছি। জনগণ এখন এমন নেতৃত্ব চায় যারা— দুর্নীতিকে ঘৃণা করে, প্রযুক্তি জানে, জনগণের পাশে দাঁড়ায়।
অতএব আমার প্রার্থিতা এই বিশ্বাসেরই প্রতিচ্ছবি—তারুণ্যের হাত ধরে একটি নতুন, মানবিক বাংলাদেশের পথে অগ্রযাত্রা
