সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের পর আগুন ও বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের আগে মধ্যরাতের পর রিয়াদ ও আশপাশের অঞ্চলে সতর্কবার্তা জারি করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন এলাকায় ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এসব ঘটনা ঘটল।
সামাজিক ও আকাশপথ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, সতর্কতা তুলে নেওয়ার পর রিয়াদের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দিকে আগুনের শিখা ও কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ অনুযায়ী, এ ঘটনার পর বিমানবন্দরে বেশ কিছু ফ্লাইটের সময়সূচিতে বিপর্যয় ঘটে এবং ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হুতি বা অন্য কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি। আবার সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এর আগে শুক্রবার রিয়াদ ও আল-খারজ শহরের বাসিন্দাদের ফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে ঘরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, যা প্রায় আধা ঘণ্টা পর তুলে নেওয়া হয়।
অপরদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কার্যকর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও পাঁচ বছর বহাল রাখার বিলে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস জানায়, ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত এই আইনের ফলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। একই আইনের আওতায় রাশিয়ার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন মেয়াদে বিধিনিষেধ বহাল রাখা বা আরোপের সুযোগ পাবে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছে তেহরান। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছেন, এ অঞ্চলের টেকসই নিরাপত্তা বাহিরের কোনো পক্ষের চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত জুলাই থেকে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ও সৌদি আরবের মধ্যকার বিরোধ নতুন করে তীব্র রূপ নেয়। হুতিরা বাব আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে সৌদি জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে মারিব ও তাইজসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধ নতুন করে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।