আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ন
পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভূট্টো-জারদারি বলেছেন, সিন্ধুকে ভাগ করে নতুন কোনো প্রদেশ গঠনের বিতর্কের চূড়ান্ত ইতি টেনেছে সিন্ধ প্রাদেশিক পরিষদ। তিনি স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, সিন্ধুর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার কেবল এখানকার জনগণেরই রয়েছে।
করাচিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় বিলাওয়াল ২৮তম সংবিধান সংশোধনী নিয়ে ফেডারেল সরকার পিপিপির সাথে কোনো ধরনের পরামর্শ করার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, নতুন প্রদেশ গঠনের বিষয়ে পিপিপির অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট এবং তা বারবার তুলে ধরা হয়েছে।
বিলাওয়াল ভূট্টো জানান, সিন্ধুর জনগণ এবং তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সিন্ধুর ভাগ্য কীভাবে নির্ধারিত হবে তা ঠিক করার একমাত্র মালিক এই প্রদেশের সাধারণ মানুষ।
বক্তব্যে ফেডারেল মন্ত্রিসভায় থাকা করাচির প্রতিনিধিত্বকারী সদস্যদের কঠোর সমালোচনা করেন পিপিপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে ঘৃণা ও বিভাজন সৃষ্টি করা রাজনীতিবিদদের কাজ হওয়া উচিত নয়। অথচ করাচি থেকে কেন্দ্রে প্রতিনিধিত্ব করা প্রতিনিধিরা শহরের জন্য ন্যূনতম কাজও করেননি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফেডারেল সরকার করাচির উন্নয়নে খুব কমই আগ্রহ দেখাচ্ছে। উল্টো তাদের প্রতিনিধিরা শহরের ভেতর বিদ্বেষ ছড়াতে ব্যস্ত রয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকারকে করাচির প্রতি আরও বেশি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান বিলাওয়াল।
বিলাওয়াল মনে করেন, ফেডারেল এবং প্রাদেশিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি একসঙ্গে মিলে কাজ করে, তবে করাচির সাধারণ মানুষকে অনেক ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব। সমন্বিত প্রচেষ্টাই এই শহরের নাগরিকদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করতে পারে।
দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিলাওয়াল ভূট্টো বলেন, যখন মূল্যস্ফীতি এবং বেকারত্ব চরমে পৌঁছেছে, তখন জনগণকে স্বস্তি দেওয়া সরকারের মূল দায়িত্ব। সিন্ধ সরকার সাধারণ মানুষের ওপর থেকে আর্থিক বোঝা কমানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।
বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিল ক্রমাগত বাড়ার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি পুরো লিয়ারি এলাকাকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান। সিন্ধ সরকার স্থানীয় বাসিন্দাদের সৌরবিদ্যুৎ সুবিধা দিতে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।