সিরাজগঞ্জে ২৯ কিমি ‘কান্নার সড়ক’, দুর্ভোগে তাঁতশিল্প এলাকা—দ্রুত সংস্কারের দাবি

সিরাজগঞ্জে ২৯ কিমি ‘কান্নার সড়ক’, দুর্ভোগে তাঁতশিল্প এলাকা—দ্রুত সংস্কারের দাবি
সিরাজগঞ্জে ২৯ কিমি ‘কান্নার সড়ক’, দুর্ভোগে তাঁতশিল্প এলাকা—দ্রুত সংস্কারের দাবি
Share this storyWith image, headline and summary
Facebook WhatsApp X Telegram

সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার তাঁতশিল্প সমৃদ্ধ এনায়েতপুর মণ্ডলপাড়া থেকে শাহজাদপুর উপজেলার আহমেদপুর পর্যন্ত প্রায় ২৯ কিলোমিটার কাঁচা ও কাদাময় সড়কের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কটি এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশের বৃহৎ এনায়েতপুর, শাহজাদপুর ও সোহাগপুরের কাপড়ের হাটে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি জরুরি রোগীদের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে নেওয়াও এখন হয়ে উঠেছে দুঃসাধ্য। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি কাদায় পরিণত হওয়ায় হাঁটাচলাও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

প্রায় ছয় বছর আগে ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনা ও হুরাসাগর নদীর তীরবর্তী শাহজাদপুরের পাঁচিল থেকে আহমেদপুর পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ করা হয়। তবে পাকা না হওয়ায় দুই বছরের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায়।

অন্যদিকে, মোনাকষা থেকে এনায়েতপুর মণ্ডলপাড়া পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার অংশ প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্ত ও উঁচু করে নতুন মাটির রাস্তা নির্মাণ করা হলেও মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সেটিও নষ্ট হয়ে গেছে। সৈয়দপুর, পাঁচিল, রূপসী ও খোকশাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। ফলে পুরো ২৯ কিলোমিটার সড়ক এখন ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়দের ভাষায়, এই সড়ক এখন “কান্নার সড়ক” হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিদিন যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, বেড়েছে ভাড়া। আগে যেখানে ভ্যান বা রিকশায় ১৫ টাকায় যাতায়াত করা যেত, এখন সেখানে গুনতে হচ্ছে ৬০ টাকা পর্যন্ত।

স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী হাজী আবুল হোসেন জানান, “দেড় বছর ধরে আমরা চরম দুর্ভোগে আছি। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতেও ভয় লাগে। দ্রুত সমাধান চাই।”

এদিকে শিক্ষার্থী ও তাঁতশিল্প সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না, আর ব্যবসায়ীরা পণ্য পরিবহনে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই সড়ক পাকাকরণ করে চলাচলের উপযোগী করা হোক এবং প্রস্তাবিত মহাসড়ক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। অন্যথায় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান ফারহান সুমেল জানান, সয়দাবাদ-এনায়েতপুর ও কৈজুরী-বেড়া সড়ক সংযুক্ত করে পাবনা পর্যন্ত প্রায় ৮৮ কিলোমিটার মহাসড়ক নির্মাণের একটি বড় প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পে বড়াল নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রকল্পের সংশোধিত নকশা অনুমোদন পেলেই দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং কাজ শুরু হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব হবে।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ