হ্যাঁ’ ভোটে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান

লেখক: Arisha Eme
প্রকাশ: ৩ মাস আগে
হ্যাঁ’ ভোটে তরুণদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বিসিএসসহ সব সরকারি চাকরির পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবি তুলেছেন একদল চাকরিপ্রার্থী। তাদের দাবি, নির্বাচনকালীন সময়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালানোর সুযোগ দিতে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২৩ দিন এসব পরীক্ষা বন্ধ রাখা হোক।

এ দাবিতে গতকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন তারা। স্মারকলিপিতে নিজেদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেন চাকরিপ্রার্থীরা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘আমরা নিম্নস্বাক্ষরকারীরা চব্বিশের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং দীর্ঘদিনের ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনের সহযোদ্ধা।’ এতে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে দেশের তরুণ ভোটাররা প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় মতপ্রকাশের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

চাকরিপ্রার্থীরা বলেন, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই সময়টি তরুণ ভোটারদের জন্য রাজনৈতিকভাবে সচেতন হওয়া, বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়া এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়। একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন সময়েই ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজন তরুণদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে। একদিকে জাতীয় নির্বাচনে নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার চাপ—এই দুইয়ের সমন্বয় তরুণদের মনোযোগ ও নির্বাচনে অংশগ্রহণকে ব্যাহত করছে বলে দাবি করা হয়।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সংবিধান অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে নির্বাচনকালীন সময়ে কমিশন নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে এসব পরীক্ষা স্থগিত রাখতে পারে।

চাকরিপ্রার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

প্রথমত, আগামী ২১ জানুয়ারির পর থেকে নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৫০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা স্থগিত রাখা। দ্বিতীয়ত, একই সময়ে দেশের সব সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ রাখা। তৃতীয়ত, নির্বাচনকালীন সময়ে নতুন করে কোনো সরকারি চাকরির পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা না করা।