১৮ ভরি স্বর্ণ ও দের লক্ষ টাকা ফেরত দিলেন সিএনজি চালক

১৮ ভরি স্বর্ণ ও দের লক্ষ টাকা ফেরত দিলেন সিএনজি চালক
১৮ ভরি স্বর্ণ ও দের লক্ষ টাকা ফেরত দিলেন সিএনজি চালক
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়ায় সিএনজি চালকের সততায় মুগ্ধ সবাই । বগুড়ার বেদগাড়ী এলাকার মৃত্যু” রন্জু ইসলামের ছেলে মোঃ খায়রুল ইসলাম খোকন। সরকারি শাহ সুলতান কলেজের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি চালাতেন সিএনজি। সিএনজি চালিয়ে নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতেন দিনভর করতেন পরিশ্রম।

সিএনজিতে কুড়িয়ে পাওয়া ১৮ ভরি স্বর্ণ ও (১৫০০০) হাজার টাকা ফিরিয়ে দিলেন হারিয়ে ফেলা প্রকৃত মালিককে। খাইরুলের এমন উদারতার মন গড়ে তুলেছেন একজন শিক্ষার্থীর মতো। শুধু স্বর্ণ নয়, তিনি একটি সমাজকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিশ্বাস, নৈতিকতা। বগুড়ার তরুণ খায়রুল ইসলাম তার সততা ও মানবিকতায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। খাইরুল ইসলাম খোকন এমন মহৎ কাজ করতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে নিজেকে ধন্য মনে করেন।

জানা যায়, গত (২৯ মার্চ) সিএনজির ড্রাইভার খায়রুল ইসলাম খোকন তার, সিএনজিতে একটি কালো ব্যাগ পায় ওই ব্যাগে ১৮ ভড়ি গহনা, ১৫ হাজার টাকা ছিলো। খায়রুল তার মাকে বললে, মমতাময়ী মা জানায় গোপনে খোঁজখবর নিতে, প্রকৃত মালিককে খুঁজতে। ৪ এপ্রিল শুক্রবার সদর থানা ও শাজাহানপুর থানার সহযোগিতায় প্রকৃত মালিককে ১৮ ভরি, গহনা ও নগদ ১৫ হাজার টাকা ফেরত দেয় খায়রুল ইসলাম খোকন।

ঘটনাটি ঘটে ২৯ মার্চে পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. শাহিন ব্যবসার কাজে বগুড়ায় আসেন। তিনি ১৮ ভরি স্বর্ণ কেনেন এবং সেই স্বর্ণ ও নগদ ১৫ হাজার টাকা একটি কালো ব্যাগে রেখে একটি সিএনজিতে উঠেন। বনানী এলাকায় পৌঁছে হঠাৎ ‘নবীন বরণ’ লেখা একটি বাস দেখে তাড়াহুড়ো করে তাতে উঠে পড়েন। সিএনজিতে রয়ে যায় তার সেই কালো ব্যাগটি।

পরবর্তীতে শাজাহানপুরে ইফতারের বিরতিতে বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন। কোথাও কিছু না পেয়ে শেষে বাড়ি ফিরে যান মোঃ শাহিন।

এদিকে খায়রুল ইসলাম খোকন ব্যাগটি পেয়ে আসল মালিক কে খোঁজার চেষ্টা করেন। তিনি পরিচিত ট্রাফিক সার্জেন্ট আলমগীরের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে শুক্রবার রাতে সদর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীনের উপস্থিতিতে প্রকৃত মালিক শাহিনের হাতে ব্যাগটি তুলে দেন। ব্যাগে থাকা ১৮ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ হাজার টাকা ছিল অক্ষত।

ব্যাগ ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত শাহিন বলেন,“আমি ভেবেছিলাম সব হারিয়ে ফেলেছি। খায়রুলের সততা আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ওর মতো মানুষ থাকলে সমাজের কোনো ভয় নেই।

বগুড়া সদর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, খায়রুলের মতো শিক্ষার্থীরা সমাজের জন্য আশার আলো। সে শুধু সৎ নয়, দায়িত্বশীল ও মানবিকও। খায়রুলের মতো মানুষ সমাজে থাকলে বদলে যাবে দেশ বদলে যাবে সমাজ।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ