১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় এসে জড়ো হচ্ছিল। এমন টানটান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশের সব পুলিশ সদস্যকে কেন রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একসঙ্গে রাখা হয়েছিল—এ প্রশ্নকে মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স-এ অনুষ্ঠিত পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রজন্ম থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত যারা ইতিহাস পড়ে কিংবা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা শুনে স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছেন, তাদের মনে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মার্চে স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে যখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল, আর পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় আনা হচ্ছিল, তখন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একত্রে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী কৌশল বা যুক্তি কাজ করেছিল—এটি মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয় হতে পারে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে রাজারবাগ পুলিশের প্রতিরোধ এবং চট্টগ্রামে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর “উই রিভোল্ট” ঘোষণা স্বাধীনতার সংগ্রামকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল।
অনুষ্ঠানে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পুলিশের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা ও দায়িত্ববোধ দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ সদস্যরা জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও মানবিকতা নিয়ে কাজ করবেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বর্তমান সরকার দায়িত্ব পালন করছে এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের অবদানের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। বিশেষ করে নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
দেশের ভেতরেও জনগণের সঙ্গে পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য ০
আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।