— বিজ্ঞাপন —

৩৭ বছর পর বাঞ্ছারামপুরের বন্ধ তাঁতকেন্দ্র চালুর উদ্যোগ, পরিদর্শনে তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে প্রায় ৩৭ বছর ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতাধীন সার্ভিসেস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ সেন্টার (এসএফসি) ও বেসিক সেন্টার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
41016
সংবাদটি শেয়ার করুনছবি, শিরোনাম ও সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ
Facebook WhatsApp X Telegram

শাহীন আহমেদ সাজু, বাঞ্ছারামপুর:  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে প্রায় ৩৭ বছর ধরে বন্ধ থাকা বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের আওতাধীন সার্ভিসেস অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ সেন্টার (এসএফসি) ও বেসিক সেন্টার পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ লক্ষ্যে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা কেন্দ্র দুটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি কেন্দ্র দুটি পরিদর্শন করেন। এ সময় কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত অবস্থা, সরকারি জমির বর্তমান পরিস্থিতি এবং স্থানীয় তাঁতশিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

— বিজ্ঞাপন —

পরিদর্শন শেষে তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলো কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে পুরোনো স্থাপনা সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি তাঁত বোর্ডের জমি বেদখল হয়ে থাকলে তা উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নে তিতাস নদীর পূর্ব তীরে তাঁত বোর্ডের ফ্যাসিলিটিজ সেন্টারটি ১৯৮৯ সালে ২৬২ শতক জমির ওপর নির্মাণ করা হয়। প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ কেন্দ্রের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় তাঁতিদের রং, মাকু ও সুতা সরবরাহ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। তবে নির্মাণের পর থেকেই কেন্দ্রটি কার্যত চালু হয়নি।

দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় কেন্দ্রটির ভবন ও যন্ত্রপাতির বড় অংশ নষ্ট হওয়ার পথে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত আবাসিক ভবনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারহীন অবস্থায় রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, একসময় বাঞ্ছারামপুরের গ্রামীণ অর্থনীতিতে তাঁতশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নানা সংকটে এ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়ন করে পুনরায় চালু করা গেলে স্থানীয় তাঁতশিল্পের বিকাশের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরতে পারে।

স্থানীয়রা আরও জানান, অতীতে বিভিন্ন সময়ে কর্মকর্তা, সচিব ও মন্ত্রীরা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে চালুর আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যানের সরেজমিন পরিদর্শন ও পুনরায় চালুর উদ্যোগে তারা আশাবাদী। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্র দুটি চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।

পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের সদস্য (অর্থ) ড. মো. মঞ্জুরুল ইসলাম, পরিচালক (প্রশাসন) কে এম আবুল কালাম আজাদ, ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. মনজুরুল ইসলাম, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান খানসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মতামত

মন্তব্য ০

আলোচনায় অংশ নিন, তবে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও অশালীন ভাষা এড়িয়ে চলুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না।

পথিক নেটওয়ার্কআমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম
PothikTV ভিডিও ও লাইভ সম্প্রচার ↗ PothikTV সাহিত্য সাহিত্য, সংস্কৃতি ও লেখকবৃন্দের মঞ্চ ↗ PothikTV Marketplace বই ও শিক্ষণ সামগ্রী ↗ PothikTV Media Center মিডিয়া সংস্থা ও সেবাসমূহ ↗