ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাইনবোর্ডবিহীন কারখানা চালু : পুরোনো টায়ার পুড়ে পরিবেশ বিপন্নের অভিযোগ

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রাধিকা–নবীনগর সড়কের পাশে বার আউলিয়া বিল এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি সাইনবোর্ডবিহীন রহস্যময় কারখানা। এখানে রাতে পুরোনো টায়ার পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে এক ধরনের কালো তৈলাক্ত পদার্থ, যা পরে সড়ক নির্মাণে বিটুমিন হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, দিনের বেলা কারখানাটি বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই সেখানে শুরু হয় প্রস্তুতি, আর রাতের আঁধারে চুল্লিতে আগুন জ্বালিয়ে টায়ার পোড়ানো হয়। উৎপাদিত তরল পদার্থ বড় লোহার কন্টিনে সংরক্ষণ করে পরে বাজারজাত করা হয়। চিমনি দিয়ে নির্গত কালো ধোঁয়ায় গোটা এলাকার বাতাস দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে নদী ও প্রকৃতি সুরক্ষা বিষয়ক সামাজিক আন্দোলন ‘তরী বাংলাদেশ’ জানায়, এই অননুমোদিত প্রক্রিয়ায় টায়ার পোড়ানো পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এতে বায়ুতে ছড়ায় বিপুল পরিমাণ কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইডসহ বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস। এ থেকে উৎপন্ন ছাইয়ে থাকে ভারী ধাতু ও রাসায়নিক যৌগ, যা মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত করছে। এর ফলে আশপাশের মানুষের শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

তরী বাংলাদেশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসক ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের কাছে।

এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসান বলেন,

“বিষয়টি আমি আজ তরী বাংলাদেশ-এর মাধ্যমে জানতে পারি। কারখানাটির পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন নেই, এমনকি এ ধরনের কারখানার অনুমোদনের সুযোগও নেই। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বার আউলিয়া বিল এলাকার এই অবৈধ কার্যক্রম দ্রুত বন্ধ না হলে বিলে থাকা প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য ও আশপাশের কৃষিজমি চিরস্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।